Advertisement
E-Paper

ভারতীয় ভেবে পাকিস্তানি পাইলটকেই পিটিয়ে খুন পাক অধিকৃত কাশ্মীরে!

একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, ওই দিন অভিনন্দনের মতোই শাহজাজকেও ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট ভেবেছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। তাঁকেও বেধড়ক মারধর করে তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০১৯ ১৪:৫৬
ভারতীয় ভূখণ্ডে ভেঙে পড় পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ এর ধ্বংসাবশেষ দেখাচ্ছেন সেনাকর্তারা। —ফাইল চিত্র

ভারতীয় ভূখণ্ডে ভেঙে পড় পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬ এর ধ্বংসাবশেষ দেখাচ্ছেন সেনাকর্তারা। —ফাইল চিত্র

উদ্দেশ্য এক। দেশ, মাতৃভূমির জন্য লড়াই। দায়িত্ব-কর্তব্য, এমনকি, পদমর্যাদাও এক। কিন্তু পরিণতি ভিন্ন। একজন বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। অন্য জন দেশের জন্য প্রাণ দিলেও সেই বীরত্ব কার্যত দেখানোর উপায় নেই। প্রথম জন ভারতীয় বায়ু সেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। অন্য জন শাহজাজ উদ্দিনও উইং কমান্ডার, তবে পাক বায়ু সেনার। যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পর পাক সেনার হাতে ‘বন্দি’ হয়েও ঘরে ফিরেছেন অভিনন্দন। কিন্তু একই ভাবে নিজের দেশ পাকিস্তানে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার পর নিরাপদে অবতরণ করেও প্রাণ বাঁচাতে পারলেন না শাহজাজ। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে গণপিটুনিতেই শাহজাজের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের। অভিনন্দনের পরিবার যেখানে খুশির জোয়ারে ভাসছে, শাহজাজের পরিবারে তখন শুধুই অন্ধকার হাহাকার।

ঘটনা কী ঘটেছিল? গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকি বায়ু সেনার এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে হামলা চালায়। পাল্টা প্রতিরোধে নামে ভারতীয় মিগ-২১ যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমানেই ছিলেন অভিনন্দন। পাকিস্তানের পক্ষে একটি এফ-১৬ বিমানে ছিলেন শাহজাজ। কার্যত ধাওয়া করে ওই পাক এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করেন অভিনন্দন। কিন্তু পাক সেনার গোলায় তাঁর বিমানটিও ধ্বংস হয়। ফলে তিনি বিমান থেকে প্যারাশ্যুট নিয়ে নামতে বাধ্য হন এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটিতে নেমে পড়েন। তার পর পাক সেনার হাতে ‘যুদ্ধবন্দি’ হওয়া, কূটনৈতিক চাপে পাকিস্তানের অভিনন্দনকে ফেরতের সিদ্ধান্ত এবং তাঁর দেশে ফেরার বাকি গল্পটা সবার জানা। দেশে ফেরার পর তাঁর দেশনায়কের সম্মান-মর্যাদা পাওয়া, দেশজুড়ে উন্মাদনার কথাও বহুল প্রচারিত।

কিন্তু কী হল শাহজাজের? ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের মতে, ওই দিন অভিনন্দন শাহজাজের বিমানকে ধ্বংস করার পর একই ভাবে বিমান থেকে বেরিয়ে প্যারাশ্যুট নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। নির্বিঘ্নে নেমেও পড়েছিলেন মাটিতে। এবং সেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরেই। কিন্তু অভিনন্দনের মতো সৌভাগ্য হয়নি শাহজাজের। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, ওই দিন অভিনন্দনের মতোই শাহজাজকেও ভারতীয় বায়ুসেনার পাইলট ভেবেছিল পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জনতা। তাঁকেও বেধড়ক মারধর করে তারা। কিল, চড়, লাথির পাশাপাশি পাথর ছুড়ে শাহজাজকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। তার পর পাক সেনা তাঁকে উদ্ধার করে সেনা হাসপাতালে ভর্তি করায়।

আরও পডু়ন: ‘আর ৭৩ সিলেক্টেড’, পাক যুদ্ধবিমানকে ধ্বংস করার আগে এই বার্তাই দিয়েছিলেন অভিনন্দন

কিন্তু শাহজাজের দুর্ভাগ্য এতটাই যে, পাক সেনাও তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা করেনি। ওই গণপিটুনির জেরেই মৃত্যু হয় শাহজাজের। কিন্তু পরে যখন পাক সেনা জানতে পারে শাহজাজ তাদেরই পাইলট, তখন সব শেষ। সেনা হাসপাতালে মারা গিয়েছেন শাহজাজ। প্রাথমিক ভাবে সেই খবরের পিছনে ভিত্তি এবং যুক্তিও রয়েছে। কারণ ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারত-পাক আকাশ যুদ্ধের পর পাক সেনার মুখপাত্রা মেজর জেনারেল আসিফ গফুর দাবি করেন, ‘‘পাক সেনা ভারতের দুই পাইলটকে আটক করেছে। তাঁদের মধ্যে এক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তাঁকে পাকিস্তানের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’’ কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই অবস্থান পাল্টে ইমরান খানের সরকার জানান, একমাত্র অভিনন্দন বর্তমানকেই তাঁরা বন্দি করেছে। ফলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং কূটনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, প্রথমে শাহজাজকেও ভারতীয় বায়ু সেনার পাইলট ধরে নিয়েই পাকিস্তান প্রথমে ভারতীয় দুই পাইলটকে আটক করার কথা বলে।

আবার পাক সেনা বা সরকারের পক্ষে এখনও দাবি করা সম্ভব নয় যে, পাক জনতার গণপিটুনিতেই শাহজাজের মৃত্যু হয়েছে। কারণ, তাতে নিজেদের বর্বরতাই সামনে চলে আসবে। আবার এফ-১৬ যুদ্ধবিমান নিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকা বা হামলার কথা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে ইসলামাবাদ (যদিও ভারতীয় ভূখণ্ডে মেলা যুদ্ধবিমানের ভগ্নাবশেষে এফ-১৬-এর প্রমাণ মিলেছে)। ফলে সেই এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উইং কমান্ডার যুদ্ধে গিয়ে মারা গিয়েছেন, এটা স্বীকার করলে দ্বিচারিতাও প্রকাশ্যে চলে আসবে।

আরও পডু়ন: কাশ্মীর সীমান্তে ভয়ঙ্কর গোলাবর্ষণ পাকিস্তানের, কুপওয়ারায় চলছে সেনা জঙ্গি লড়াই

কিন্তু পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত লন্ডনের আইনজীবী খালিদ উমর ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে সেই খবর কার্যত নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দাবি, পাক সেনার এক পদস্থ কর্তা তাঁকে জানিয়েছেন, অভিনন্দনের মিগ-২১ বাইসন এবং পাকিস্তানের এফ-১৬ প্রায় একই সময়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভেঙে পড়ে। কিন্তু পাক সেনা বা সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম দিকে তাঁদের পরিচয় জানার চেষ্টাই হয়নি।

তবে পরে জানা গিয়েছে, ১৯ স্কোয়াড্রন (শার্দিল)-এর উইং কমান্ডার। এবং তিনি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের পাইলট। কাকতালীয় ভাবে অভিনন্দনের মতোই তিনিও বায়ু সেনা পরিবারের সদস্য। তাঁর বাবা এয়ার মার্শাল ওয়াসিমউদ্দিন পাক বায়ু সেনার ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ (অপারেশনস)। দেশের জন্য প্রাণ দিয়েও এমন এক বায়ু সেনার পরিবার আপাতত কান্নায় ডুবেছে— নীরবে-নিভৃতে।

India Pakistan Conflict Abhinandan Varthaman IAF PoK F-16 Pilot
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy