Advertisement
E-Paper

ইরানের হাতে এখনও রয়েছে ‘ট্রাম্প কার্ড’! তেহরানে ঢুকে তা ধ্বংস করতে চান ট্রাম্প, কী নিয়ে এত মাথাব্যথা

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি স্পষ্ট— ইরানকে কোনও ভাবেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে দেওয়া চলবে না। পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার যাবতীয় উপাদান তাদের ধ্বংস করতে হবে। তেহরান তাতে রাজি নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩০ মে ২০২৬ ১৪:২৪
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানের সঙ্গে শান্তির চুক্তি হয়ে গিয়েও যেন হচ্ছে না। কিছুতেই শেষ পর্যন্ত একমত হতে পারছেন না দুই দেশের নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি স্পষ্ট— ইরানকে কোনও ভাবেই পরমাণু শক্তিধর দেশ হতে দেওয়া চলবে না। পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার যাবতীয় উপাদান তাদের ধ্বংস করতে হবে। এ ছাড়া, হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বিনা শুল্কে নির্বিঘ্নে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলও ট্রাম্পের অন্যতম দাবি। ইরান এখনও এর কোনওটিতে রাজি হয়নি। ফলে শান্তিচুক্তি থমকে রয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের রিপোর্টে দাবি, ইরানের হাতে এখনও এমন একটি উপাদান রয়ে গিয়েছে, যা আমেরিকানদের ঘুম উড়িয়েছে। সেখানেই লুকিয়ে সমাধান।

পরমাণু অস্ত্র এবং বোমা তৈরির জন্য বছরের পর বছর ধরে ইউরেনিয়াম মজুত করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। সেই হামলাতেই মজুত থাকা ইউরেনিয়ামের অনেকাংশে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। কিন্তু এখনও কিছুটা রয়ে গিয়েছে। তা-ই আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। আমেরিকার বিরুদ্ধে এই ‘অত্যন্ত সমৃদ্ধ’ ইউরেনিয়ামের ভান্ডারকেই ইরানের ‘ট্রাম্প কার্ড’ বলছেন কেউ কেউ। দুই দেশের যাবতীয় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম।

শুক্রবার ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, আমেরিকার আক্রমণের পরই ইরান যে বিপুল ইউরেনিয়াম ভান্ডার মাটির গভীরে পুঁতে দিয়েছে, তা বার করতে হবে এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে আমেরিকার সহযোগিতায় তা ধ্বংস করতে হবে। ইরান এখনও এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

পরমাণু বোমা তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়াম। পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি থেকে প্লুটোনিয়াম নিষ্কাশন করতে হয়। তার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন পরিকাঠামোর প্রয়োজন। ইউরেনিয়াম জোগার করা তার চেয়ে অনেক সহজ। ইরানের তিনটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি মাটির নীচে রয়েছে। মাটির উপরে থাকা তৃতীয় কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রগুলিকে নিয়ে আমেরিকা উদ্বিগ্ন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিসংখ্যান বলছে, মার্কিন আগ্রাসনের আগে ইরানের হাতে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল ৪৪০.৯ কেজি, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল ১৮৪.১ কেজি, পাঁচ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল ৬০২৪.৪ কেজি এবং দুই শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল ২৩৯১.১ কেজি। বিশেষজ্ঞেরা জানিয়েছেন, ইরানের হাতে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যে পরিমাণে রয়েছে, তা আরও সমৃদ্ধ করা গেলে কমপক্ষে ১০টি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে ফেলা যাবে।

Uranium Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy