রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘লাইভ মনিটরিং’ চালাবে স্বাস্থ্যভবন। ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। সেখান থেকেই হাসপাতালগুলিতে সরকারি নজরদারি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘হাসপাতালে কোনও দালালচক্র যাতে না চলে, কোনও রোগীকে যাতে রেফার না করে দেওয়া হয়, তা দেখার জন্য আমরা পেশাদার লোক নিয়োগ করছি। এ বিষয়ে জ়িরো টলারেন্স নীতি নেবে সরকার।’’ ইতিমধ্যে এক মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করার জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালগুলিতে দালালচক্র এবং রেফারের সমস্যা দীর্ঘ দিনের। আগের সরকারের আমলেও এ নিয়ে রোগীরা ক্ষোভ উগরে দিতেন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যভবনে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে। সেখান থেকে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালগুলিতে নজরদারি চলবে। কারও কোনও অভিযোগ থাকলে সেখানে ফোন করে জানাতে পারবেন। প্রাথমিক ভাবে সমস্ত জেলা হাসপাতাল এবং মেডিক্যাল কলেজগুলিকে এই পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ডাক্তার আছেন কি না, রোগীরা ঠিক জায়গায় আছেন কি না, যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে আছে কি না, কোথাও দালালচক্র চলছে কি না, বা কোনও রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হচ্ছে কি না, তা দেখা হবে। ‘লাইভ মনিটরিং’ চলবে স্বাস্থ্যভবন থেকে। পরিষেবা আরও উন্নত করার জন্য হাসপাতালগুলিতে ডাক্তার এবং নার্সদের স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
জরায়ুমুখ ক্যানসারের টিকাকরণ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে সারা দেশে চালু হয়ে গিয়েছে। শনিবার শুভেন্দু এ রাজ্যে তা চালু করলেন। এ বার থেকে এই ক্যানসারের টিকা বিনামূল্যে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পাওয়া যাবে। মূলত ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। শনিবার বিধাননগরের হাসপাতালে সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁরা জানান, মহিলাদের যত ধরনের ক্যানসার হয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার তার মধ্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক। প্রতি বছর গড়ে এর ফলে দেড় লক্ষ মহিলা আক্রান্ত হন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, আপাতত রাজ্যের ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে টিকাকরণ চালু করা হল। টিকার ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০টি ডোজ় আপাতত পশ্চিমবঙ্গে পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়া, এই কর্মসূচি থেকেই শুভেন্দু এসএসকেএম হাসপাতালের ১০০টি নতুন শয্যার উদ্বোধন করেছেন।
শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের ছ’কোটির বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। হাসপাতালগুলির নাম দেওয়া হবে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্য জমি খুঁজছে সরকার। এ ছাড়া, যে সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল রাজ্যের কাছ থেকে এক টাকায় জমি কিনেছে, সেখানে নিয়ম অনুযায়ী ১৫ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে পরিষেবার জন্য সংরক্ষণ করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল রোগীরা সেখানে পরিষেবা পাবেন।