ঋতুস্রাব চলাকালীন পেটে যন্ত্রণা স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু যন্ত্রণা যদি অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তখনই তা চিন্তার। অনেক মেয়েরই মাসের চারটে দিন ভারী ঋতুস্রাব হয়, সঙ্গে তলপেট ও শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা শুরু হয়। অনেক সময়ে এই যন্ত্রণা এতটাই অসহ্য হয়ে ওঠে, যে ব্যথানাশক ওষুধ খেতেও বাধ্য হন অনেকে। সেই সঙ্গে গালে ব্রণ বেরিয়ে যাওয়া, হরমোন জনিত নানা সমস্যা দেখা দেওয়াও একেবারেই স্বাভাবিক নয়। অনেকে একে পিসিওএস বা পিএমওএস ভেবে ভুল করেন। রোগটি এর চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
কী এই রোগ?
রোগটির নাম এন্ডোমেট্রিয়োসিস যা চুপিসাড়ে বাসা বাঁধে শরীরে। জরায়ুর ভিতরের স্তরের নাম এন্ডোমেট্রিয়াম। ওই অংশের কোষগুলির অনিয়মিত ও অস্বাভাবিক বিভাজন শুরু হলে, তখন জরায়ুর আস্তরণের ভিতরে টিউমার বা সিস্টের মতো তৈরি হয়। অনেক সময়ে দেখা যায়, জরায়ুর ভিতরে শুধু নয়, বাইরের স্তরেও ছোট ছোট সিস্টের মতো গজিয়ে উঠেছে। এই ধরনের সিস্ট আবার ডিম্বাশয় ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের ভিতরেও গজাতে পারে। সমস্যা হল, সেগুলি যন্ত্রণাদায়ক। ঋতুস্রাবের সময়ে এই সিস্টগুলি এত বেশি বাধা তৈরি করে যে, রক্তক্ষরণ যেমন বেশি হয়, তেমনই পেটে অসহ্য যন্ত্রণাও হয়।
আরও পড়ুন:
২০ থেকে ৪০ বছর বয়সি মহিলাদের এন্ডোমেট্রিয়োসিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যদি রোগটি আগে থেকে চিহ্নিত করা না যায়, তা হলে সেটি সন্তানধারণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখে রোগটি চিনে নেওয়া জরুরি। এন্ডোমেট্রিয়োসিসের সমস্যা হলে সবচেয়ে আগে যে উপসর্গ দেখা দেবে, তা হল ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগে ও শেষের পরে বেশ কিছু দিন পর্যন্ত তলপেট ও কোমরে অসহ্য ব্যথা থাকবে। মলত্যাগ করার সময়ে এবং প্রস্রাব করতে গেলেও তলপেটে যন্ত্রণা হতে পারে। ঋতুস্রাবের সময়ে অতিরিক্ত রক্তপাত হবে এবং মাসে দু’বারও ঋতুস্রাব হতে পারে। এন্ডোমেট্রিয়োসিস হলে ক্লান্তি প্রচণ্ড বেড়ে যাবে। কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাঘোরার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বমি ভাব থাকবে সর্ব ক্ষণ। এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে যোগাযোগ করতে হবে চিকিৎসকের সঙ্গে।