স্থূলতার হাত ধরে যে সব রোগ শরীরে বাসা বাঁধে, তার মধ্যে একটি হল ফ্যাটি লিভার। অনিয়মিত খাওয়াদাওয়ার ফলে লিভারে মেদ জমা হতে হতে এই সমস্যা আরও বড় আকার নেয়। লিভার সাধারণত ৫ থেকে ৬ শতাংশ চর্বি শোষণ করতে পারে। এর চেয়ে বেশি চর্বি জমা হতে থাকলেই তা বিপজ্জনক। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা পরবর্তীতে লিভারের ক্ষত বা লিভার সিরোসিসে গড়াতে পারে। তাই ফ্যাটি লিভারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ডায়েট করলেই চলবে না, সেই সঙ্গে নিয়ম করে অভ্যাস করতে হবে কিছু ব্যায়াম। পদ্ম ময়ূরাসন যোগাসনের এমন এক পদ্ধতি, যা কেবল লিভারের অসুখ নির্মূল করবে না, গ্যাস-অম্বল, বদমহজম, কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও নানা অসুখবিসুখও প্রতিরোধ করতে পারবে।
কী ভাবে করবেন?
১) প্রথমে পদ্মাসনে ম্যাটের উপর বসুন। ডান পা বাঁ ঊরুর উপর এবং বাঁ পা ডান ঊরুর উপর রেখে পদ্মাসন করতে হবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) সামনের দিকে মাটিতে দুই হাত রাখুন। হাতের তালু মাটিতে থাকবে।
৩) এ বার শরীর সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। অনেকটা উপুড় হয়ে শোয়ার মতো ভঙ্গি করুন। দুই পা কিন্ত পদ্মাসনের ভঙ্গিতেই থাকবে।
৪) হাত ভাঁজ করে কনুই কোমরের পাশে রাখুন।
৪) দেহের উপরিভাগ সামান্য তুলুন। শরীরের ভর থাকবে দুই হাতের উপরে।
৫) এ বার পদ্মাসনের ভঙ্গিতে পা মুড়ে রেখেই তা ধীরে ধীরে উপরে তোলার চেষ্টা করুন। শরীর টানটান থাকবে। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
৬) হাতে ভর দিয়ে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। শুধু দু’টি হাতের উপর গোটা শরীরের ভার থাকবে।
আরও পড়ুন:
উপকারিতা:
শরীরের ভারসাম্য বাড়বে। মেরুদণ্ড নমনীয় হবে।
গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে, অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমে যাবে।
ফ্যাটি লিভারের সমস্যা নির্মূল হবে।
কোষ্ঠকাঠিন্যে দীর্ঘ দিন কষ্ট পেলে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
মানসিক চাপ কমবে, মনঃসংযোগ বাড়বে।
সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে।
হাত ও পায়ের অসাড়তা দূর হবে, পেশির জোর বাড়বে।
সারা শরীরের স্ট্রেচিং হবে নিয়মিত এই আসন করলে।
কারা করবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করবেন না।
স্লিপ ডিস্ক থাকলে আসনটি করবেন না।
হার্টের রোগ থাকলে আসনটি অভ্যাসের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।