Advertisement
E-Paper

‘আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’! কাতারে প্রতিনিধি পাঠিয়েও বৈঠকে বসল না ইরান, হুঁশিয়ারি, শর্তপূরণ না হলে আলোচনা নয়

ইরানের স্পিকারের অভিযোগ, আমেরিকা বার বার সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন হামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১০:১৫
Iran rise allegation against US, says no final talks until MoU terms are met

(বাঁ দিকে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দ্বিতীয় দফার শান্তিবৈঠক কবে হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও ঘোষণা হয়নি। তার মধ্যেই আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখল ইরান। সে দেশের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আমেরিকা যদি সমঝোতাপত্র (মউ) মেনে না-চলে, তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। এ-ও জানান, ওয়াশিংটন যদি প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে ব্যর্থ হয় তবে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোবে না।

এক সাক্ষাৎকারে বাঘেরের অভিযোগ, আমেরিকা বার বার সমঝোতা শর্ত লঙ্ঘন করেছে। পারস্য উপসাগরে মার্কিন হামলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা অবশ্যই জবাব দেব।’’ এ-ও জানান, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা শুধু একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছোনো নয়। বরং এই আলোচনায় বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সমঝোতার ১৪ দফা শর্তের কথা।

বাঘেরের কথায়, ‘‘আমরা মউ স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতাপত্রের ১৩ অনুচ্ছেদ পূরণের জন্য আমরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। হরমুজ় প্রণালীতে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এটিই ছিল সমঝোতা স্মারকের অন্যতম বড় সাফল্য।’’ কী রয়েছে ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদে? ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমঝোতাপত্রে শর্তগুলি মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে আমেরিকা এবং ইরানের যৌথ ব্যবস্থাপনায় গঠিত একটি দল। যদিও সেই দল কী ভাবে কাজ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইরানের স্পিকারের মতে, ওই দল গঠনের কাজ বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।

মউ স্বাক্ষরের পর তেল রফতানির উপর চাপানো নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে আমেরিকা। বাঘের বলেন, ‘‘হরমুজ় প্রণালী থেকে অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ইরান চার কোটি ব্যারেলেরও বেশি অপরিশোধিত তেল রফতানি করেছে।’’ তিনি জানান, হরমুজ়ের উপর ইরান এবং ওমানের কর্তৃত্ব রয়েছে। ওই জলপথের উপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে। সমঝোতা স্মারকের কথা উল্লেখ করে বাঘের বলেন, ‘‘বিনামূল্যে হরমুজ় দিয়ে ৬০ দিন যাতায়াত করতে পারবে পণ্যবাহী জাহাজগুলি। ইরান কোনও অবস্থাতেই হরমুজ়ের উপর তার অধিকার ছেড়ে দেবে না। এটা আমদের আঞ্চলিক জলসীমা।’’

কাতারে আমেরিকা-ইরান বৈঠক নিয়ে বিভ্রান্তি তুঙ্গে। সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, কাতারে দ্বিতীয় দফার বৈঠক হবে। ইরানের অনুরোধে আমেরিকা বৈঠকে বসতে রাজি হয়েছে। মঙ্গলবার সেই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। সোমবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার কাতারে যাচ্ছেন। ঘটনাচক্রে, প্রায় একই সময়ে কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠায় ইরানও। তবে তেহরান জানায়, কাতারে প্রতিনিধিদল যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমেরিকার সঙ্গে বৈঠক হবে। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই সে দেশের সংবাদসংস্থা ‘ফার্স নিউজ়’-কে বলেন, “মার্কিন প্রতিনিধিদের কাতারে যাওয়ার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিধিদলের সেখানে যাওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।”

গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত ‘মউ’ সই হওয়ার পরে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হয়। তবে পরে দফায় দফায় আমেরিকা এবং ইরান, দু’দেশই হামলা চালায়। আপাতত আবার তারা সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে। তবে দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপের ‘খেলায়’ নেমেছে। চলছে বাগ্‌যুদ্ধও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশই পরখ করে নিতে চাইছে বিপক্ষের ‘ক্ষমতা’। ছোটখাটো হামলার ঘটনা ঘটলেও আমেরিকা বা ইরান, কেউই অদূর ভবিষ্যতে পুরোদমে যুদ্ধে নামতে চাইবে না। তবে নরমে-গরমে উত্তেজনা জিইয়ে রাখতে চাইছে দুই দেশই।

US-Iran Conflict Peace Talks

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy