খুন হয়ে যেতে পারেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এমনটাই আশঙ্কা করছেন তিনি। এমনটা ঘটলে জরুরি পরিস্থিতিতে ইরানের দায়িত্ব কাদের উপর থাকবে, তা-ও স্থির করে ফেলেছেন খামেনেই। সে ক্ষেত্রে দেশ চালানোর দায়িত্ব থাকবে খামনেইয়ের বিশ্বস্ত সঙ্গী এবং তাঁর অনুগত আলি লারজানির উপরে। সঙ্গে রাজনৈতিক এবং সামরিক পর্যায়ে আরও কয়েক জন ঘনিষ্ঠকে এই দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন তিনি। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ জানাচ্ছে, সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ এবং আমেরিকার সঙ্গে উত্তেজনার মাঝে গত জানুয়ারিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
লেফটেন্যান্ট লারজানি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী। তিনি ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কোরের প্রাক্তন কমান্ডার। বর্তমানে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’-এর প্রধান লারজানি। তেহরানের আধিকারিক সূত্রে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’ জানাচ্ছে, গত জানুয়ারি থেকেই দেশ পরিচালনার জন্য এই অনুগত লেফটেন্যান্টকে বেছে নেন খামেনেই। ইরানে বর্তমানে প্রেসিডেন্ট হিসাবে রয়েছেন মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। তবে খামেনেইয়ের পছন্দের পাত্রের এই উত্থানের ফলে দেশ পরিচালনার দিক থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন পেজ়েশকিয়ান।
বস্তুত, এমন এক সময়ে লারজানিকে ইরানের রাজনীতির পরিসরে খামেনেই এগিয়ে এনেছেন যখন তেহরানে উত্তেজনাময় পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকেই খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। জানুয়ারিতে তা আরও প্রকট হয়। তার সঙ্গে ওই বিক্ষোভে প্রকাশ্যে সমর্থন জুগিয়ে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। উদ্ভূত ওই পরিস্থিতিতে খামেনেই নিজেই আশঙ্কা করছিলেন তিনি গুপ্তহত্যার শিকার হতে পারেন। ওই সময়েই লারজানি এবং কয়েক জন ঘনিষ্ঠকে এই নির্দেশ দেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা।
আরও পড়ুন:
খামেনেই তাঁদের নির্দেশ দেন, আমেরিকা বা ইজ়রায়েলের বোমা থেকে ইরানকে রক্ষা করতেই হবে। শুধু তা-ই নয়, খামেনেই বা কোনও শীর্ষ নেতা খুন হয়ে গেলেও যেন শত্রুদের হাত থেকে ইরানকে রক্ষা করা হয়। লারজানি এবং অন্য মুষ্টিমেয় কয়েকজন অনুগতকে সেই নির্দেশও দিয়ে রেখেছেন তিনি। এমনটাই জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছয় ইরানি আধিকারিক।
ইরান সরকারের ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল বিশ্লেষক নাসের ইমানিও একই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তেহরান থেকে টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকারে তিনি ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্স’কে জানান, খামনেইয়ের সঙ্গে লারজানি দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। এই সামরিক এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সঙ্কটের মুহূর্তেও লারজানির উপরেই আস্থা রাখছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। ইমানির কথায়, “সর্বোচ্চ নেতা লারজানির উপরে সম্পূর্ণ আস্থা রাখেন। এই সংবেদনশীল সময়ের জন্য লারজানিই উপযুক্ত ব্যক্তি বলে তিনি মনে করেন।”