Advertisement
E-Paper

আশ্রয় কোথায়! কিম-ক্ষেপণাস্ত্রে ত্রাস জাপানে

তিন সপ্তাহে দু-দু’বার দেশের উপর দিয়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ায় পর জাপানবাসীকে এ ভাবেই আত্মরক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে টোকিও সরকার। কিন্তু সমস্যা হল, ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে বহু বাড়িই কাঠের। যেগুলিতে মাটির তলায় ঘরই নেই।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:২১
কিমের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন দেশের অন্তত ৫২% মানুষ। ছবি:সংগৃহীত।

কিমের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন দেশের অন্তত ৫২% মানুষ। ছবি:সংগৃহীত।

শক্তপোক্ত ছাদের তলায় মাথা গুঁজুন। অথবা আশ্রয় নিন মাটির নীচের ঘরে।

তিন সপ্তাহে দু-দু’বার দেশের উপর দিয়ে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ায় পর জাপানবাসীকে এ ভাবেই আত্মরক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছে টোকিও সরকার। কিন্তু সমস্যা হল, ভূমিকম্পপ্রবণ জাপানে বহু বাড়িই কাঠের। যেগুলিতে মাটির তলায় ঘরই নেই। গ্রামের দিকে তো সিমেন্টের বাড়ি প্রায় দেখাই যায় না। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বুঝলেই ‘নিরাপদ’ স্থানে লুকোনোর পরামর্শ অর্থহীন ঠেকছে বহু মানুষের কাছে।

গত মাসে উত্তর-পূর্ব জাপানের হোক্কাইডো প্রদেশের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল উত্তর কোরিয়া। সপ্তাহ না কাটতেই চলতি মাসের শুরুতে ফের হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষা করে কিম জং উনের দেশ। যার জেরে পিয়ংইয়ংয়ের উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপায় রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাতে আরও খেপে উঠে পরমাণু বোমায় জাপানের ৪টি দ্বীপ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় পিয়ংইয়ং। সেই হুঙ্কার যে ফাঁপা নয় তার প্রমাণও মিলেছে গত কাল। রাজধানীর উত্তরে সুসান বিমানঘাঁটি থেকে ফের একটি মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় শুক্রবার সকালে। জাপানের উপর দিয়ে গিয়ে যা প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ে। ফলে কিমের রোষে পড়ে যুদ্ধের সিদুঁরে মেঘ দেখছে হিরোশিমা-নাগাসাকির আতঙ্ক বুকে নিয়ে বাঁচা জাপান।

সেই আতঙ্কের ছায়া ইসামু ওয়ার চোখেমুখে। জাপানের এরিমো শহরে একটি রেস্তোরাঁ চালান বছর সত্তরের ইসামু। এই ছোট্ট জনপদটির উপর দিয়েই শুক্রবার উড়ে গিয়েছে কিমের ক্ষেপণাস্ত্র। ‘‘সরকার বলছে পোক্ত বাড়িতে লুকোতে বা মাটির তলায় আশ্রয় নিতে। কিন্তু কোথায় পাব সেই রকম মাথা গোঁজার জায়গা?’’ প্রশ্ন অসহায় প্রৌঢ়ের।

হামেশাই ছোট-বড় ভূকম্পন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অভ্যস্ত জাপান সদা-তৎপর এগুলির মোকাবিলায়। ভূমিকম্পের হাত থেকে বাঁচার উপায় শিখিয়ে থাকে স্থানীয় প্রশাসন ও স্কুল। এ বারে শেখানো হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্রের হাত থেকে অত্মরক্ষার উপায়ও। গত মাসে হোক্কাইডো প্রদেশের উপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রেডারে ধরা পড়ে বিপদসঙ্কেত। লাউডস্পিকারে সতর্ক করে দেওয়া হয় মানুষকে। বন্ধ হয়ে যায় টেলিভিশনের অনুষ্ঠান। এসএমএস করে সাবধান করে দেওয়া হয় সকলকে।

যদিও এ সবে মোটেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না জাপানবাসীরা। গত সপ্তাহে এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কিমের ক্ষেপণাস্ত্রের ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন দেশের অন্তত ৫২% মানুষ। ৩৩% জানিয়েছেন, আতঙ্ক থাকলেও তা মারাত্মক কিছু নয়। আর নির্ভয়ে রয়েছেন সাকুল্যে ২%। উত্তর কোরিয়ার টক্কর নিতে এ বছর প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ করেছে জাপান। তবু আতঙ্কে প্রাক্তন সরকারি কর্মী মাচিকো ওয়াতানাবে। তাঁর কথায়, ‘‘ভয়ে গুটিয়ে যাচ্ছি। জানি না কীভাবে নিজেদের এই বিপদ থেকে বাঁচাবো?’’

আতঙ্কের মুখে সকলে অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বাঁচতে মজবুত আশ্রয় বানাচ্ছেন কেউ কেউ। ফলে চাহিদা বাড়ছে ওরিবো সেইসাকুসোর মতো আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারদের।
তিনি জানাচ্ছেন, যাঁরা নতুন বাড়ি বানাচ্ছেন তাঁরা এবং অনেক ক্ষেত্রে নতুন তৈরি হওয়া অফিস বা কারখানাগুলির কাছে কর্মীদের সুরক্ষার জন্য আশ্রয় বানাচ্ছে মালিকপক্ষ। তবে সংখ্যায় তা খুবই কম। কারণ, হিসেব বলছে প্রায় চার মাস ধরে আড়াই লাখ ডলার খরচ করে যেগুলি তৈরি হচ্ছে, তাতে আঁটতে পারেন মেরেকেটে ১৩ জন।

এর মধ্যেও দিব্যি নিশ্চিন্তে অনেক টোকিওবাসী। ২১ বছরের ওয়েব ডিজাইনার কেন তানাকা যেমন বলছেন, ‘‘আমার মনে হয় না টোকিও বা রাজধানীর কাছেপিঠে কোনও এলাকায় আক্রমণ করার সাহস পাবে উত্তর কোরিয়া।’’ তবে তানাকাদের সংখ্যা নেহাতই হাতে গোনা।

Japan Tokyo Kim Jong-Un Missile Ballistic Missile North Korea Hoakkaido Shinzo Abe
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy