Advertisement
E-Paper

যুবরানির স্মৃতিতে ফুলে ঢাকছে প্রাসাদ

কেনসিংটন প্যালেসের গেট বরাবর এখন সার সার ফুলের তোড়া। ব্রিটেনের যুবরানি ডায়ানার মৃত্যুর কুড়ি বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৩১ অগস্ট।

শ্রাবণী বসু

শেষ আপডেট: ২৩ অগস্ট ২০১৭ ০১:৪৭
স্মৃতিতে: ফুলে ঢেকেছে কেনসিংটন প্রাসাদের ফটক। —নিজস্ব চিত্র।

স্মৃতিতে: ফুলে ঢেকেছে কেনসিংটন প্রাসাদের ফটক। —নিজস্ব চিত্র।

কেউ তাঁকে ভোলেনি। তা-ই যেন বারবার জানান দিতে আসা।

কেনসিংটন প্যালেসের গেট বরাবর এখন সার সার ফুলের তোড়া। ব্রিটেনের যুবরানি ডায়ানার মৃত্যুর কুড়ি বছর পূর্ণ হচ্ছে আগামী ৩১ অগস্ট। তার এক সপ্তাহ আগে থেকেই জনপ্রিয় যুবরানিকে মনে রেখে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন বহু মানুষ। রেখে যাচ্ছেন ফুলের স্তবক, মোমের আলো।

প্যারিসে ১৯৯৭ সালের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছিল যুবরানির প্রাণ। তার পর থেকে মানুষের কাছে কেনসিংটন প্যালেস আর তার চারপাশের বাগানটাই হয়ে উঠেছে ডায়ানার স্মৃতির প্রতীক। এই মুহূর্তে কেনসিংটন প্যালেস দেখে থমকে যাচ্ছেন পথচলতি অনেকেই। কাল থেকে সেখানে ফুল দেওয়ার ঢল।

বহু প্রেম সংক্রান্ত তুমুল বিতর্ক, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অসম্ভব টানাপড়েন সত্ত্বেও জনমানসে যুবরানি ডায়ানার ভাবমূর্তি এতটুকু টাল খায়নি। উল্টে, দিনে দিনে প্রচারের আলো থেকে অনেকটা দূরে সরে যেতে হয়েছে ডায়ানার প্রাক্তন স্বামী যুবরাজ চার্লসকে। শুধু যুবরাজ নন, ব্রিটিশ আম জনতা কখনওই ভাল চোখে দেখেনি চার্লসের স্ত্রী ক্যামিলাকেও। তারা তাঁকে যুবরানি হিসেবে ভাবেওনি।
রাজপরিবার-ঘনিষ্ঠ অনেকেরই তাই মত, ক্যামিলা কোনও দিনই রানির ‘খেতাব’ পাবেন না।

রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ‘সাম্রাজ্যে’ যুবরাজ চার্লস ২৭ শতাংশ নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করেছেন— ব্রিটিশ রাজপরিবার নিয়ে একটি সমীক্ষায় সম্প্রতি উঠে এসেছে এই তথ্য। ২০১৩ সালে অবশ্য ১৫ শতাংশ ছিল এই অঙ্কটা। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, ডাচেস অব কর্নওয়াল ক্যামিলা ভবিষ্যতে রানি হওয়ার যোগ্য। ৩০ শতাংশের মতে, ক্যামিলার কোনও খেতাব থাকাই উচিত নয়।

যে ব্রিটিশ টিভি চ্যানেলে ডায়ানার বিয়ে ও চার্লসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের ওঠাপড়া সংক্রান্ত সাক্ষাৎকার সম্প্রচার করা হয়েছে, তারাই এই সমীক্ষাটি চালিয়েছিল। তাদের দাবি, ওই তথ্যচিত্র দেখানো হয়ে গিয়েছে। এখন যদি আবার ওই সমীক্ষা চালানো হয়, দেখা যাবে চার্লসের জনপ্রিয়তা আরও তলানিতে ঠেকেছে। কারণ ওই চ্যানেলের মতে, চালর্স-ডায়ানার বিয়ের ব্যর্থতা এবং শেষমেশ ডায়ানার ওই পরিণতির জন্য জনতা আঙুল তোলেন যুবরাজের দিকেই।

গত সপ্তাহে আর একটি ব্রিটিশ দৈনিক সমীক্ষা চালিয়ে জানার চেষ্টা করেছিল, রানির পরে দেশের ভাবী রাজা হিসেবে কাকে দেখতে চান মানুষ? তাতেও পাল্লা ভারী চার্লসের বড় ছেলে ডিউক অব কেমব্রিজ উইলিয়ামের দিকেই। মাত্র ২২ শতাংশ ভোট পড়েছে চার্লসের জন্য। আর এক ব্রিটিশ দৈনিক আবার বলেছে, বয়স নব্বই পেরিয়ে গেলেও নিজের ছেলের জন্য সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের। ওই দৈনিক সূত্রে দাবি রানি নাকি বলেছেন, ‘‘আগে কর্তব্য, আগে দেশ। তাই আমি থাকব।’’

তবে ডায়ানা-বিতর্কে ছেলের পাশেই দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে রানিকে। রাজপরিবারের জীবনীকার পেনি জুনোরের মতে, ‘‘সমীক্ষার তথ্যে বিস্মিত রানি। ও সবে পাত্তা না দিয়ে তাঁর মনে হয়েছে, ২০ বছর পরে চার্লসের খ্যাতি অন্য খাতে বয়ে গিয়েছে। যুবরাজ এখন মানসিক ভাবে অনেক হাল্কা ও আত্মবিশ্বাসী। তাঁর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে।’’ রানিকে উদ্ধৃত করে চালর্স সম্পর্কে জুনোর বলেছেন, ‘‘কঠিন সময় পেরোতে হয়েছে ওকে। বিয়েটা সফল হয়নি। তার জন্য কেউ ওকে ক্ষমা করেনি। কারণ ডায়ানা ওকে দুষে গিয়েছে আর ও একটা কথাও বলেনি।’’

কেনসিংটন প্যালেসের গেটে জমে থাকা ফুলের স্তূপ অবশ্য যুবরানি বলতে এক জনকেই জানে!

Princess Diana Buckingham Palace Kensington Palace কেনসিংটন প্যালেস ডায়ানা
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy