Imran Khan: মধ্যরাতে খানখান ইমরানের সিংহাসন! নেপথ্যে চক্রব্যূহ গড়েন যে চার পাক ‘মহারথী’
এক সপ্তাহব্যাপী নাটকের অবসান হয়েছে শনিবার রাতে। ইমরানের এই হারের নেপথ্যে কুশীলব হিসাবে চার জনের নাম উঠে আসছে। কে তাঁরা?
এক সপ্তাহব্যাপী নাটকের অবসান হয়েছে শনিবার রাতে। মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে হেরে গিয়ে গদি ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের প্রধান ইমরানকে। তাঁর এই হারের নেপথ্যে কুশীলব হিসাবে চার জনের নাম উঠে আসছে। কে তাঁরা?
শাহবাজ শরিফ: পাকিস্তানের চার বারের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাই। ইমরানের মতো প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ নওয়াজও শেষ করতে পারেননি। বর্তমানে নওয়াজ ব্রিটেনে নির্বাসিত।
সত্তর বছর বয়সি শাহবাজ পাক রাজনীতিতে বর্তমানে বিরোধীদের অন্যতম মুখ। সপ্তাহব্যাপী রাজনৈতিক নাটকে তাঁর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি চর্চিত। বর্তমানে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজের (পিএমএল-এন) সভাপতি। এর আগে তিনি পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন।
পাকিস্তানের শিল্পপতি পরিবারের ছেলে। আবেগপ্রবণ অথচ শক্তিশালী বক্তব্য রাখার জন্য তিনি খ্যাত। বক্তৃতায় কবিতা উদ্ধৃত করেন। প্রশাসক হিসাবে যথেষ্ট কঠোর বলেও পরিচিত তিনি।
একাধিক বিবাহ। লন্ডন ও দুবাইয়ে তাঁর বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট থাকার জন্য তিনি সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে এসেছেন। এ সব সত্ত্বেও পাকিস্তানে তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়।
আরও পড়ুন:
আসিফ আলি জারদারি: পাকিস্তানের ধনী সিন্ধু পরিবার থেকে আসা জারদারি তাঁর ‘প্লেবয়’ ধরনের জীবনযাপনের জন্য পরিচিত ছিলেন। ১৯৮৭ সালে বেনজির ভুট্টোর সঙ্গে বিয়ে হয়। তার পরের বছরই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন বেনজির।
রাজনীতির সঙ্গে দুর্নীতিতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। জারদারির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি অর্থের বিনিময়ে সরকারি চুক্তি পাইয়ে দিতেন। এ জন্য তাঁর নাম হয়েছিল ‘মিস্টার টেন পার্সেন্ট’! দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর দু’বার জেলও হয়।
২০০৭ সালে বেনজির ভুট্টোর মৃত্যুর পর পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) কো চেয়ারম্যান হন। এক বছর পর পিএমএল-এন-এর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হন।
বিলাবল ভুট্টো জারদারি: বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারির ছেলে। মায়ের হত্যার পর মাত্র ১৯ বছর বয়সে পিপিপি-র চেয়ারম্যান হন।
আরও পড়ুন:
পড়াশোনা অক্সফোর্ডে। ৩৩ বছর বয়সি বিলাবল মায়ের মতোই প্রগতিশীল হিসাবে পরিচিত। প্রায়শই নারী এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলেন।
নেটমাধ্যমে যথেষ্ট জনপ্রিয় তিনি। তবে মাঝেমধ্যে ভুল উর্দু লেখার জন্য সমলোচিত হন।
মৌলানা ফজলুর রহমান: কট্টরপন্থী ইসলাম হিসাবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করার পর, পরবর্তীকালে নমনীয় ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত হন। ধর্মনিরপেক্ষ ও বামদলগুলির জোটও গঠন করেন তিনি।
তাঁর দল জামিয়াতুল উলেমা-ই-ইসলাম (এফ)-এর ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা না থাকলেও, সরকার গড়ার অন্যতম কারিগর হতে পারেন।
ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর শত্রুতা বহু চর্চিত। জেমাইমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে তাঁর বিয়ের প্রসঙ্গ তুলে ইমরানকে ‘ইহুদি’ বলেন।
তবে ইমরাান পাল্টা তাঁকে ‘মোল্লা ডিজেল’ বলেন। জ্বালানি লাইসেন্স দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁকে এই নামেই সম্বোধন করতেন পাক প্রাধনমন্ত্রী।