Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

Zone of Silence: রেডিয়ো সিগন্যাল কাজ করে না, ঘুরে চলে কম্পাসের কাঁটা, এখানেই নাকি ভিন্‌গ্রহীদের আনাগোনা

নিজস্ব প্রতিবেদন
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১০:৪৫
উত্তর মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ান মরু অঞ্চলে এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে। রেডিয়ো সিগন্যাল এখানে কাজ করে না। কম্পাসের কাঁটা অনিয়ন্ত্রিত ভাবে ঘুরতে শুরু করে। রহস্যজনক বারমুডা ট্রায়াঙ্গলের সঙ্গে তুলনা করা হয় এই অঞ্চলের অদ্ভুত ঘটনাগুলিকে।

এই অঞ্চল নিয়ে একাধিক মতবাদ রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চল পরিদর্শনে আসা মানুষেরা বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী থেকেছেন। কেউ নাকি ভিন্‌গ্রহীদের আনাগোনা প্রত্যক্ষ করেছেন, কেউ ওই নির্দিষ্ট জায়গায় একাধিক বার উল্কাবৃষ্টি হতে দেখেছেন। ভূতুড়ে নানা কাণ্ডের জন্যই এই অঞ্চলের নাম হয়েছে ‘জোন অব সায়লেন্স’। অর্থাৎ নীরবতার অঞ্চল।
Advertisement
মাত্র ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে ওই ‘জোন অব সায়লেন্স’। চার লাখ হেক্টর এলাকা জুড়ে থাকা মাপিমি বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভেরই একটি অংশ এই এলাকা। এই অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে বসতিহীন।

১৯৬৬ সালে এই অঞ্চলের এমন নামকরণ হয়। ওই বছর প্রিমেক্স নামে একটি তেল উৎপাদনকারী সংস্থা এই অঞ্চল পরিদর্শনের জন্য লোক পাঠায়। যে দলটি ওই এলাকায় পৌঁছেছিল তার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন অগাস্ত হ্যারি দে লা পিনা নামে এক ব্যক্তি। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন ওই অঞ্চলে পৌঁছনোর পরই তাঁর রেডিয়োর সিগন্যাল চলে যাচ্ছে। তার পর তিনিই এই অঞ্চলের এমন নামকরণ করেন।
Advertisement
এর কয়েক বছর পর ১৯৭০ সালে খবরের শিরোনামে উঠে আসে এর নাম। উটার গ্রিন রিভার বিমানঘাঁটি থেকে এথেনা নামে একটি রকেট উৎক্ষেপিত হয়েছিল। নিউ মেক্সিকোর হোয়াইট স্যান্ড এলাকায় ওই রকেটটির নামার কথা ছিল। কিন্তু এই অঞ্চলের উপর দিয়ে অতিক্রম করার সময়ই তা নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং জোন অব সায়লেন্সের ঠিক মাঝে ভেঙে পড়ে। ক্রমে রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের পছন্দের জায়গা হয়ে ওঠে এই অঞ্চল।

ওই ঘটনার পর ভন ব্রাউন নামে এক বিজ্ঞানীকে এই অঞ্চলে পাঠায় নাসা। কেন রকেটি এখানেই ভেঙে পড়েছে তার প্রকৃত কারণ জানার জন্যই তাঁকে পাঠিয়েছিল নাসা। ভন সেখানে ২৮ দিন ছিলেন। ৩০০ জন কর্মী তাঁর অধীনে কাজ করছিলেন।

এই দীর্ঘ সময় থাকার জন্য ছোটখাটো একটি গ্রাম বানিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। থাকার জন্য একাধিক অস্থায়ী বাড়ি, রান্নাঘর, চিকিৎসালয় এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি রেললাইনও বানিয়ে নিয়েছিলেন। রকেটের ধ্বংসাবশেষ এবং মাটি-সহ অন্যান্য নমুনা ট্রেনে করেই গবেষণাগারে পাঠাতেন।

ভনের কাটানো ২৮ দিনই এই অঞ্চল নিয়ে একাধিক অতিজাগতিক ধারণার জন্ম দেয়। শ্রমিকদের কেউ নাকি ভিন্‌গ্রহীদের ঘোরাফেরা করতে দেখেন তো কেউ নাকি হঠাৎ হঠাৎ আকাশে আলোর বিচ্ছুরণ প্রত্যক্ষ করেন। এই অঞ্চলে নাকি এমন কিছু প্রাণী এবং উদ্ভিদের দেখা মেলে যা রহস্যজনক।

তবে পরবর্তীকালে এই অঞ্চল নিয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটেছে। জানা যায়, এক সময়ে এই অঞ্চলে প্রচুর উল্কাপাত হয়েছে। ১৯৩৮ এবং ১৯৫৪ সালে একই জায়গায় পর পর দু’টি বড় আকারের উল্কা পড়ে। এর ফলে বিশালাকার গর্তও হয়। এর কয়েক বছর পর ১৯৬৯ সালে ফের এই অঞ্চলের কিছুটা পশ্চিমে উল্কাবৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞানীদের অনুমান, সেই কারণেই এই অঞ্চল কিছুটা চৌম্বকত্ব লাভ করে থাকতে পারে। তবে এই অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠা বেশির ভাগ ঘটনাই মনগড়া।

এক সময় এই অঞ্চল টেথিস সাগরে ডুবে ছিল। ফলে প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক জীবের জীবাশ্ম এবং নুন পাওয়া যায় মাটিতে। সেগুলি উত্তোলনের কাজ চলে।