×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

আন্তর্জাতিক

ধর্মীয় গোঁড়ামির বাধা কাটিয়ে জনপ্রিয় মডেল, বিশ্বের সেরা মুখের অধিকারী ইয়েল এখন বিমানবাহিনীর সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদন
২৭ জানুয়ারি ২০২১ ১১:০৬
প্রথমে নিজেই নিজের কিছু ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেন। স্কুল পড়ুয়া কিশোরীর সেই ছবিই কী ভাবে চোখে পড়ে যায় এক পেশাদার চিত্রগ্রাহকের।

চিত্রগ্রাহক মারিনার তরফ থেকেই প্রথম ফটোশ্যুটের প্রস্তাব পান ১৬ বছরের কিশোরী ইয়েল শেলবিয়া।
Advertisement
তাঁর কেরিয়ার যে এই ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং তিনি যে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মুখের অধিকারী হয়ে উঠবেন তিনি তা স্বপ্নেও ভাবেননি কখনও।

তবে ১৯ বছরের কিশোরী ইয়েলকে মাত্র ৩ বছরের কেরিয়ারেই সম্মুখীন হতে হয়েছে অসংখ্য বিরোধিতা, হুমকি এবং কুমন্তব্যের।
Advertisement
সে সব কিছু পিছনে ফেলে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত মডেল এবং সবচেয়ে সুন্দর মুখের অধিকারী। লিয়োনেল মেসি থেকে জনপ্রিয় অভিনেত্রী-মডেল কিম কার্দাশিয়ানের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

ইয়েলের জন্ম ইজরায়েলের নাহারিয়াতে। এক গোঁড়া খ্রিস্টান পরিবারে। বাবা একটি কারখানার সুপারভাইজার এবং মা লাইব্রেরিয়ান।

গোঁড়া খ্রিস্ট পরিবারে জন্ম হওয়ায় ছোট থেকেই ধর্মীয় নানা বেড়াজালের মধ্যেই বড় হয়েছেন ইয়েল।

তাঁকে একটি ধর্মীয় স্কুলেও ভর্তি করা হয়। সেখানে অন্যান্য বিষয়ে পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে নানা পাঠ শিখেছেন তিনি।

চলাফেরা, ওঠাবসা, খাওয়াদাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ সব কিছুতেই ধর্মীয় রীতি মাথায় রাখতে হত তাঁকে।

যেমন যখন তখন যে কোনও খাবার খেতে পারতেন না ইয়েল। ধর্মীয় রীতি মেনে তৈরি খা্বারই একমাত্র খেতে পারতেন তিনি।

একই ভাবে পোশাকের ক্ষেত্রেও এমন অনেক বিধিনিষেধ ছিল। সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিন বাড়িতে থেকে বিশেষ ধর্মীয় রীতি পালনও করতে হত তাঁকে।

ইয়েল যখন মডেলিং শুরু করেন প্রচুর বিরোধিতা হয়েছে। ইয়েলকে ওই ধর্মীয় স্কুল থেকে বহিষ্কার করার জন্য ইজরায়েলের খ্রিস্টান সমাজ থেকে সে দেশের শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হয়।

ইয়েল এবং তাঁর পরিবারের সঙ্গে অনেক আলোচনার পর তাঁকে পড়াশোনা করতে দিতে রাজি হন শিক্ষামন্ত্রী।

ইয়েলের কেরিয়ার কোনও ভাবেই তাঁর ধর্মীয় রীতি পালনের বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, এই শর্তে রাজি হন শিক্ষামন্ত্রী।

কিন্তু মডেলিং এবং ধর্মীয় গোঁড়ামি সমান্তরাল ভাবে চালানো অসম্ভব হয়ে ওঠে ইয়েলের কাছে। শ্যুট করতে তাঁকে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্তে ছুটতে হয়।

সেখানে ধর্মীয় রীতি মেনে ঠিকমতো খাবার পান না। আবার পোশাক বাছাইয়ের কারণে অনেক ভাল সুযোগও হাতছাড়া হয়ে যায়।

কিন্তু তাঁর আশেপাশে মানুষের এই ধর্মীয় গোঁড়ামির জন্যই আবার তাঁর কেরিয়ারের পালে হাওয়া লাগে। সারা বিশ্বে খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।

২০১৭ সাল থেকে সামনের সারির মডেল হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর কেরিয়ারের ঊর্ধ্বমুখী গতি প্রথম সারির অনেক জনপ্রিয় মডেলকেও হার মানাবে।

২০১৮ সালে তিনি টিসি ক্যান্ডলার নামক সংস্থার বিচারে বিশ্বের তৃতীয় সুন্দর মুখের অধিকারী নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালে এই তালিকায় তাঁর স্থান ছিল দ্বিতীয় এবং ২০২০ সালে তিনিই বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মুখের শিরোপা পেয়েছেন।

২০২০ সালে তিনি আবার ইজরায়েলের বিমানবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ইয়েল এখন চুটিয়ে ডেট করছেন ব্রান্ডন কর্ফের সঙ্গে। ব্রান্ডন আমেরিকার কোটিপতি সামার রেডস্টোরের নাতি।

Tags: