Advertisement
E-Paper

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষের ঠিক আগে আমেরিকার সঙ্গে ‘গোপন চুক্তি’ ইউনূসদের! শর্ত নিয়ে অন্ধকারে ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের বণিকমহলের একটি বড় অংশের অভিযোগ, চুক্তির খসড়ায় কী লেখা আছে, কোন শর্তে সেটি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, এই সব বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ ফুরোনোর ঠিক আগেই এই চুক্তি করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২১
মুহাম্মদ ইউনূস।

মুহাম্মদ ইউনূস। —ফাইল চিত্র।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তার ঠিক তিন দিন আগে, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে আমেরিকা এবং বাংলাদেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যচুক্তি (বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি বা বিজেইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশের বণিকমহলের একটি বড় অংশের অভিযোগ, চুক্তির খসড়ায় কী লেখা আছে, কোন শর্তে সেটি স্বাক্ষরিত হচ্ছে, এই সব বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ ফুরোনোর ঠিক আগেই এই চুক্তি করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

যে পণ্য বাংলাদেশ থেকে অন্যান্য দেশে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়, তা হল রেডিমেড পোশাক। সে দেশের পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমই-এর অন্যতম শীর্ষ আধিকারিক ইনামুল হক খান ‘প্রথম আলো’-কে বলেন, “চুক্তির খসড়ার উপর আলোচনা দরকার। কারণ, এই চুক্তির ফলে যাঁরা ক্ষতির শিকার হতে পারেন, তাঁরা এই ব্যাপারে অন্ধকারে রয়েছেন। অথচ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিচ্ছে।” বাংলাদেশের পণ্য রফতানিকারকদের পাশাপাশি সে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ করা ব্যবসায়ীরাও চুক্তির শর্ত নিয়ে অন্ধকারে। ওই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর না-ই করতে পারত। এ ক্ষেত্রে তাঁদের যুক্তি, নির্বাচনের পর বিজয়ী দল বা জোট সরকার গঠন করবে। চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে তাদের উপরেই।

আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় গত বছরের এপ্রিল মাসে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ এপ্রিল হঠাৎ ১০০টি দেশের উপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্য শুল্কের হার ছিল ৩৭ শতাংশ। পরে নয়া শুল্কনীতি কার্যকরের সময় তিন মাস পিছিয়ে দেয় আমেরিকা। তিন মাস পর ২০২৫ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশের উপর আরোপিত শুল্ক ৩৭ থেকে কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প।

এরই মধ্যে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ও দর কষাকষি চলতে থাকে। গত বছর ১৩ জুন আমেরিকার সঙ্গে একটি নন-ডিসক্লোজ়ার এগ্রিমেন্ট বা এনডিএ-তে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। সেখানে শুল্কচুক্তির শর্ত গোপন রাখার কথা বলা হয়। আমেরিকায় গিয়ে আলোচনার পর গত বছরের ২ অগস্ট বাংলাদেশের উপর আরোপিত শুল্কের হার ২০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয় ট্রাম্প প্রশাসন। তখন বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছিলেন, চুক্তিতে দেশের স্বার্থবিরোধী কিছু থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতি নিয়ে এই বিষয়ে সবিস্তার জানানোর কথাও বলেছিলেন তিনি।

Bangladesh US Trade Deal Muhammad Yunus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy