E-Paper

‘এগিয়ে আসুন’, তরুণী জঙ্গির বার্তা ভিডিয়োয়

বালোচ জঙ্গিদের ভারত মদত দেয় বলে দাবি করেছিল ইসলামবাদ। গত কাল সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি।

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে তরুণী বললেন, ‘‘বালোচ সমাজ, আজ আপনাদের এক বোন পঞ্জাবি সেনার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। এ বার আপনাদের সাহস অর্জন করে এগিয়ে আসা উচিত।’’ ভিডিয়োর শেষে দেখা গেল তাঁর ও অন্য এক তরুণীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) দাবি, তাঁদের নাম হাওয়া বালোচ ও আসিফা মেঙ্গাল। গত কয়েক দিন ধরে পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে সে দেশের সেনার বিরুদ্ধে চলা হামলায় ফিদায়েঁ বা আত্মঘাতী জঙ্গিদের মধ্যে অন্যতম ‘জেন জ়ি’-এর সদস্য এই দুই তরুণী। বিএলএ-র তরফে যে হামলার সাঙ্কেতিক নাম ‘অপারেশন হেরফ’। সাম্প্রতিক সময়ে বালুচিস্তানে এত বড় হামলা চালায়নি বালোচ জঙ্গিরা। শনিবার রাত থেকে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে পাক সেনা। বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ় বুকতি জানিয়েছেন, গত ৪০ ঘণ্টার লড়াইয়ে ১৪৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাক সেনাবাহিনীর ১৭ জন এবং ৩১ জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানান তিনি। বালোচ জঙ্গিদের পাল্টা দাবি, পাক নিরাপত্তা বাহিনীর ২০০ জনের বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। বালোচ জঙ্গিদের ভারত মদত দেয় বলে দাবি করেছিল ইসলামবাদ। গত কাল সেই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওয়া বালোচ ও আসিফা মেঙ্গালের মতো তরুণীদের এই লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়া প্রমাণ করে বালুচিস্তানে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন।বিএলএ-র ভিডিয়োয় হাওয়া বালোচকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘‘পাকিস্তান ভয়ে এগিয়ে আসছে না। ওরা আমাদের সামনে দাঁড়াতে পারবে না। আজ আনন্দের দিন। আমরা শত্রুর সামনে দাঁড়িয়েছি। আমরা শত্রুকে দেখিয়ে দেব, বালোচ মা ও বোনেদের কেউ ফেলে যায়নি। কেউ ফেলে যাবেও না।’’ অন্য এক জঙ্গির প্রশ্নের জবাবে হাওয়া বলছেন, ‘‘যুদ্ধ আনন্দের বিষয়।’’

সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষের জেরে গোটা বালুচিস্তানেই আজ আতঙ্ক দেখা গিয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় পর পর বিস্ফোরণের জেরে বন্ধ ছিল দোকানপাট, বাজার। সরফরাজ আজ দাবি করেছেন, যে সব জেলায় জঙ্গি হামলা হয়েছিল সেগুলিকে সেনা জঙ্গিমুক্ত করেছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা ওদের তাড়া করছি। সহজে ছাড়া হবে না। আমাদের রক্ত এত সস্তা নয়।’’

বালোচ ন্যাশনাল মুভমেন্টের মানবাধিকার শাখা পাঙ্কের দাবি, ২০২৫-এর ডিসেম্বর থেকে বালুচিস্তানের বিভিন্ন জেলায় ‘অত্যাচার’ শুরু করেছে পাক সেনা। ডিসেম্বরেই জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ৮৬ জনকে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Balochistan

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy