Advertisement
E-Paper

যুদ্ধ বাধলে ভারতের থেকে অনেক বেশি ধাক্কা খাবে পাকিস্তানের অর্থনীতি! বলছে রিপোর্ট

ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার অনেক দুর্বল। এর ফলে পাকিস্তানকে বিদেশি সাহায্যের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়। এ বার বর্তমান আবহে সেই পরিস্থিতিই আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৫ ১৭:০৭
আরও বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান!

আরও বিপাকে পড়তে পারে পাকিস্তান! —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পরে ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপানউতর চলছে। এর প্রভাব ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের অর্থনীতিতে অনেক বেশি পড়বে। এমনটাই বলছে অর্থনৈতিক পরিষেবা সংস্থা মুডি’স রেটিংয়ের রিপোর্ট। তারা বলছে, পহেলগাঁও পরবর্তী সময়ে এই টানাপড়েন চলতি আর্থিক বছরে পাকিস্তানের বৃদ্ধি, সংহতিসাধনকে ধাক্কা দিতে পারে। পাশাপাশি, তাদের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারেও টান পড়তে পারে।

ভারতের তুলনায় পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার অনেক দুর্বল। ভারতের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ ৬৮৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৫৮ লক্ষ কোটি টাকা। সেখানে পাকিস্তানের হাতে বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলারের। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা। এর ফলে পাকিস্তানকে বিদেশি সাহায্যের মুখাপেক্ষী থাকতে হয়। এ বার বর্তমান আবহে সেই পরিস্থিতিই আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অতিমারির পরে পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ধস নেমেছিল। মুডি’স রিপোর্ট বলছে, আইএমএফ প্রকল্পের আওতায় আসার পরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থার ধীরে ধীরে ‘উন্নতি’ হচ্ছে। মূল্যবৃদ্ধি কমছে। ভান্ডারে বৈদেশিক মুদ্রাও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সে কথা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে খোদ আইএমএফ। তুলনায় ভারতের অর্থনীতি অনেকটাই স্থিতিশীল। বৃদ্ধির হারও পাকিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। সে কারণেই ওই অর্থনৈতিক পরিষেবা সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই চাপানউতরের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতে খুব একটা পড়বে না। কারণ, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সে ভাবে আর্থিক লেনদেন নেই। ২০২৪ সালে ভারত মোট যে রফতানি করেছে, তার ০.৫ শতাংশ পাকিস্তানে করা হয়েছে। তবে ওই সংস্থা একটা বিষয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, প্রতিরক্ষা খাতে ভারতের খরচ বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে বাধ্য।

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বেশির ভাগই পর্যটক। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানের দিকে আঙুল তুলেছে। তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করেছে। সিন্ধুজল চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে। পাকিস্তানি নাগরিকদের স্বল্পমেয়াদি, মেডিক্যাল ভিসা বাতিল করে দিয়েছে। পাকিস্তানও পাল্টা কিছু কড়া পদক্ষেপ করেছে। তবে মুডি’স রেটিংয়ের রিপোর্ট বলছে, ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর মতো অবস্থা নেই পাকিস্তানের। অতিমারির পরে প্রায় দেউলিয়া অবস্থা হয়ে যায় পাকিস্তানের। ঋণে জর্জরিত। ২০২৩ সালের মে মাসে পাকিস্তানে মূল্যবৃদ্ধি পৌঁছেছিল ৩৮.৫০ শতাংশে। পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল পাকিস্তানিদের চা কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ, সে দেশে চা উৎপন্ন হয় না। পুরোটাই আমদানি করতে হয়। আমদানি করলে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে টান পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করার ক্ষমতা শাহবাজ শরিফ সরকারের নেই। যুদ্ধ যদি হয়, তা হলে তা পাকিস্তানের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়তে পারে, দাবি রিপোর্টে।

Pakistan Pahalgam Terror Attack Economy
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy