তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক বাগযুদ্ধ একটু স্থগিত রেখে বুধবার ভোটে গেল নেদারল্যান্ডস। ইউরোপের মানুষ অতি দক্ষিণপন্থার দিকে কতটা ঝুঁকবেন, জনতোষণের পারদ কতটা চড়বে, আমেরিকায় ট্রাম্পের জয় এবং ব্রেক্সিট পাশ হওয়ার পরে ইউরোপ কোন দিকে হাঁটবে, তার একটা পরীক্ষা এই ভোটেই হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রান্স, জার্মানিতেও ভোট এ বছরেই। তার আগে নেদারল্যান্ডসকে দিয়েই জনমনের হালচাল অনেকটা বোঝা যাবে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে এমনিতে বেশ রক্ষণশীল। কিন্তু অভিবাসী-বিরোধী, ইসলাম-বিরোধী চড়া সুরের প্রচারে তাঁকে ছাপিয়ে গিয়েছেন অতি-দক্ষিণপন্থী গিয়ার উইল্ডার্স। সমীক্ষা এখনও রুট্টেকে এগিয়ে রাখলেও উইল্ডার্সও খুব পিছিয়ে নেই। ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া অলাঁদ যেমন, একই সুরে নেদারল্যান্ডসে রুত্তে-ও বারবার বলে চলেছেন, অতি-দক্ষিণ থেকে সাবধান! জনপ্রিয়তার সস্তা ও বিপজ্জনক বুলি থেকে সাবধান!
বস্তুত সিরিয়ার শরণার্থী সঙ্কটকে কেন্দ্র করেই ইউরোপের ভিতরে আড়াআড়ি বিভাজন খুব প্রকট হয়ে উঠেছে। লিবারেলপন্থীরা যেমন শরণার্থীদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়ানোর কথা বলেছেন, অতি-রক্ষণশীলরা দ্বিগুণ উৎসাহে তার বিরোধিতা করেছেন। তবে নেদারল্যান্ডসে বহু বছর ধরে আশ্রয় নেওয়া আফ্রিকান শরণার্থীদের একটা বড় অংশ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। তাঁদের দাবি, ‘‘উইল্ডার্স এলে কত খারাপ হবে জানি না। কিন্তু যাঁরা আছেন, তাঁরা যে আমাদের জন্য কিছুই করেননি, সেটা বিলক্ষণ জানি।’’ এই শরণার্থীদের অনেকেরই না আছে মাথা গোঁজার স্থায়ী আস্তানা, না আছে চাকরি বা লেখাপড়া করার সুযোগ। তার মধ্যে তুরস্ক আবার নাৎসি বলে গাল দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসে কার মুখে হাসি ফোটে, দেখার জন্য এখন মুখিয়ে আছে গোটা ইউরোপ।