×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৫ জুন ২০২১ ই-পেপার

বিদেশেও নীরব খেল! নকল হিরের আংটি উপহার দেওয়ায় বিয়ে ভাঙল যুগলের

সংবাদ সংস্থা
নয়াদিল্লি ০৮ অক্টোবর ২০১৮ ০৩:০০
গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

গ্রাফিক: শৌভিক দেবনাথ।

ব্যাঙ্ক প্রতারণার দায়ে দেশ থেকে পালিয়েছেন তিনি, এ বার বিদেশেও তাঁর নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হল। নকল হিরের আংটি বিক্রির অভিযোগে ৪০ লক্ষ ২০ হাজার ডলারের প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হলনীরব মোদীর বিরুদ্ধে। ক্যালিফোর্নিয়ায় এই অভিযোগ দায়ের করেছেন তাঁরই এক পূর্ব পরিচিত ক্রেতা। নীরবের উপরে ভরসা করে গার্লফ্রেন্ডকে খুশি করতে গিয়ে আপাতত অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ওই ক্রেতা। কারণ নকল হিরের আংটি দেওয়ায় সম্পর্কটাই ভেঙে গিয়েছে তাঁদের।

ওই ব্যক্তির নাম আলফানসো। তিনি কানাডার বাসিন্দা। ২০১২ সালে নীরব মোদীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। তারপর থেকে দু’জনের মধ্যে ভাল সম্পর্কও গড়ে ওঠে। নীরব তাঁর কাছে বড় ভাইয়ের মতোই ছিলেন। সেই নীরব মোদীই যে তাঁকে ঠকাতে পারেন, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন।

আলফানসো জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে তিনি নীরবকে একটি মেল করেন হিরের আংটি কিনতে চেয়ে। বিয়েতেগার্লফ্রেন্ডকে উপহার দেওয়ার জন্যই আংটিটা কিনতে চান তিনি। নীরব আংটির ডিজাইন জানিয়ে তাঁকে পাল্টা মেল করেন। সেই ডিজাইন আলফনসো এবং তাঁর গার্লফ্রেন্ড— দু’জনেরই বেশ পছন্দ হয়। যার দাম ১ লক্ষ ২০ হাজার ডলার।

Advertisement

আরও পড়ুন: দেওয়াল নোংরা করে নেতার সাফাই, এ তো ঐতিহ্য!

এতে খুশি হয়ে নীরব মেলে তাঁকে জানান,‘একজন পুরুষের জীবনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তে আমার কথা মনে রাখার জন্য ধন্যবাদ।’ ততোধিক খুশি হয়ে আলফানসোর গার্লফ্রেন্ড ২.৫ ক্যারটের আরও একটি হিরের আংটি কিনতে চান। যার দাম ৮০ হাজার ডলার। নীরবের হংকংয়ের একটি অ্যাকাউন্টে ২ লক্ষ ডলার পাঠিয়ে দেন আলফনসো। আর জুন মাসে দুটো আংটিই তাঁদের কাছে পৌঁছে যায়। নীবর যে তাঁদের আসলে বোকা বানিয়েছেন, তা ঘূণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা। টের পেলেন আরও দু’মাস পরে।

অগস্টে আলফানসোর গার্লফ্রেন্ডের এক পরিচিতই তাঁকে জানান, হিরেগুলো আসলে নকল।গার্লফ্রেন্ডের কাছ থেকে এই শুনে যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না আলফনসো। ‘অসম্ভব! এর জন্য আমি ২ লক্ষ ডলার খরচ করেছি। এগুলো নকল হতেই পারে না। তাছাড়া এটা নীরব পাঠিয়েছে,’ প্রথমে গার্লফ্রেন্ডকে ঠিক এ কথাগুলোই বলেছিলেন তিনি।

বিস্ময়ের হয়তো আরও কিছুটা বাকি ছিল। এর পর নীরব সম্পর্কে আরও অবাক হওয়ার মতোই তথ্য জানতে পারেন তিনি। নীরব যে আসলে ব্যাঙ্ক ঋণ প্রতারণায় অভিযুক্ত এবং সে জন্যই দেশ ছাড়া, জানতে পারেন তিনি।

নীরবের থেকে গয়না কিনে শুধু টাকা-পয়সাই খোয়ালেন না ওই ব্যক্তি। গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে তাঁর ব্রেক-আপও হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনার দু’দিন পরই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।



Tags:

Advertisement