স্থগিত হয়ে থাকা সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি পুনরায় চালু করার জন্য মরিয়া পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই চুক্তি ব্যর্থ হলে খাতায়কলমে থাকা কোনও আন্তর্জাতিক সমঝোতাই আর নিরাপদ থাকবে না। পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে সিন্ধুচুক্তি বর্তমানে স্থগিত রেখেছে ভারত। তবে পাক উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার মঙ্গলবার জোর দিয়ে দাবি করেন, ওই চুক্তি এখনও ‘বৈধ এবং কার্যকর’ রয়েছে। চুক্তি পালন করাও ‘বাধ্যতামূলক’ বলে দাবি করেন তিনি।
পহেলগাঁও হামলার পরে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, রক্ত এবং জল কখনও একসঙ্গে বইতে পারে না। এ অবস্থায় মঙ্গলবার ইসলামাবাদে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে একটি আলোচনাসভায় বক্তৃতা করেন পাক উপপ্রধানমন্ত্রী। রেডিয়ো পাকিস্তান অনুযায়ী সেখানে তিনি দাবি করেন, “কেউ একতরফা ভাবে নিজেদের বাধ্যবাধকতা স্থগিত রাখতে পারে— এমন কোনও বিধান চুক্তিতে নেই।” ইশাকের বক্তব্য, সিন্ধুচুক্তি শুধুই একটি জলবণ্টন চুক্তি নয়। এটি আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদের ওই আলোচনাসভায় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান পিপল্স পার্টির প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি। তিনিও সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি পুনরায় চালু করার দাবিতে সরব হন। বিলাওয়ালের কথায়, “এই চুক্তি কখনওই পাকিস্তানের প্রতি কোনও দয়া ছিল না।” কথাপ্রসঙ্গে হরমুজ় প্রণালী এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিলাওয়াল বলেন, “হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকলে যদি আমেরিকা-ইরানের মধ্যে শান্তি ফেরানো না যায়, তবে সিন্ধু জল চুক্তি পুনরায় চালু না-হলে ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতি কী ভাবে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে?”
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধুচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির মধ্যে পূর্বমুখী শতদ্রু, বিপাশা এবং ইরাবতীর জল ভারতের প্রাপ্য। পশ্চিমমুখী সিন্ধু, চন্দ্রভাগা এবং বিতস্তার জলে পাকিস্তানেরও অধিকার রয়েছে। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসাবে এই চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্তব্য করেছিলেন, রক্ত এবং জল একই সঙ্গে বইতে পারে না। ভারত চুক্তি স্থগিত করার পর থেকেই একাধিক অভিযোগ করে এসেছে পাকিস্তান। তবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান বার বার বুঝিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।