আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে তালিবান বাহিনীর ৫৮৩ জনকে হত্যা করেছে পাকিস্তান। রবিবার এক বিবৃতি প্রকাশ করে এমনটাই দাবি করল ইসলামাবাদ। গত মাসের শেষের দিকে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দু’পক্ষই একে অন্যের উপর হামলা এবং পাল্টা হামলা চালায়। এ বার পাকিস্তানের দাবি, ওই সংঘর্ষে তারা ৫৮৩ তালিবানকে হত্যা করেছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজ়ব লিল-হক’ শুরু করেছিল পাকিস্তান। বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কিছুটা স্তিমিত। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ বার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারারের দাবি, ওই সংঘর্ষের সময়ে তালিবানের ২৪২টি চেকপোস্ট ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। পরে আরও ৩৮টি চেকপোস্ট দখল করে সেগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মন্ত্রী এ-ও দাবি করেন, ওই সংঘর্ষের সময়ে তালিবান বাহিনীর ৫৮৩ জন নিহত হয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও ৭৯৫ জন।
ইসলামাবাদের আরও দাবি, ওই সংঘর্ষের সময়ে তালিবানের ২১৩ টি ট্যাঙ্ক এবং সাঁজোয়া গাড়ি ধ্বংস করেছে পাক সেনা। আকাশপথেও তালিবানের ৬৪টি ঘাঁটিতে পাক বায়ুসেনা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি পাকিস্তানের মন্ত্রীর। বস্তুত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে বিবাদ নতুন নয়। ইসলামাবাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে জঙ্গিরা পাকিস্তানে নানা সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত করছে। সংঘর্ষ শুরুর সময় ইসলামাবাদ দাবি করেছিল, তারা আফগানিস্তানে থাকা জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। যদিও তালিবান সরকারের দাবি, পাক সেনা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা চালিয়েছে। তার জেরে অনেক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তান বরাবরই অভিযোগ তুলে আসছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিগোষ্ঠীকে মদত দিচ্ছে আফগানিস্তান। এ-ও দাবি করেন, পাকিস্তানে নানা হামলার নেপথ্যে রয়েছে টিটিপি। তা-ই টিটিপি-কে মদত না জোগাতে বার বার সতর্ক করা হয়েছে আফগানিস্তানকে। তবে পাকিস্তানের অভিযোগ, তার পরেও সতর্ক হয়নি তালিবান সরকার। সেই কারণে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে খোলাখুলি যুদ্ধে নেমেছে পাকিস্তান।