পাকিস্তানের নুর খান বায়ুসেনাঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করল আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। রবিবার মধ্যরাতে আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে সমাজমাধ্যমে বলা হয়েছে, রাওয়ালপিন্ডির নুর খান বায়ুসেনাঘাঁটি ছাড়াও বালোচিস্তানের পাক সেনার দ্বাদশ ডিভিশনের সদর দফতরে হামলা চালিয়েছে তারা।
এর আগে তালিবান সেনার তরফে দাবি করা হয়েছিল যে, আফগানিস্তানের পূর্ব দিকের শহর জালালাবাদে একটি পাক যুদ্ধবিমানকে গুলি করে নামিয়েছে তারা। সংবাদসংস্থা এএফপি জানায়, ওই যুদ্ধবিমানের চালক প্যারাসুটে চেপে নীচে নামার কিছু ক্ষণ পরেই তাঁকে আটক করে আফগানিস্তান।
শুক্র এবং শনিবার আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি সেনাচৌকিতে পাকিস্তান হামলা চালায় বলে দাবি করে কাবুল। পাল্টা জবাব দেয় আফগান সেনাও। দু’দেশের এই সংঘর্ষের মধ্যে রবিবার ভোর থেকে আবার নতুন করে বোমাবর্ষণ শুরু হয়েছে আফগানিস্তানে। তবে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জ়বিউল্লা মুজাহিদ এক্স হ্যান্ডলে দাবি করেছেন, পাকিস্তান লাগাতার বোমাবর্ষণের চেষ্টা করছে।
প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় পাকিস্তানের নুর খান বায়ুসেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালিয়েছিল ভারতীয় সেনা। ১০ মে ওই ঘাঁটিতে নির্দিষ্ট অংশে রাখা দু’টি ট্রাক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হানা চালানো হয়। দু’টি ট্রাক এবং ওই অংশটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানা যায়। ১৭ মে একটি উপগ্রহচিত্রে দেখা যায়, নুর খান ঘাঁটির ওই অংশ ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যম উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে জানায়, ভারতীয় হানায় ক্ষতিগ্রস্ত বায়ুসেনার ঘাঁটিটি পুনর্নির্মাণ করছে পাকিস্তান।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছিল। এর পরেই ৭ মে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করতে সিঁদুর অভিযান শুরু করে ভারত। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালানোর চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ করে ভারতীয় সেনা। অভিযানে পাকিস্তানের ছ’টি সামরিক ঘাঁটিতে হানা দেয় ভারত। তার মধ্যে একটি নুর খান বলে সাংবাদিক বৈঠক করে জানায় ভারত। ১০ মে সন্ধ্যায় ভারত এবং পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।