Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৪ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

সমুদ্রে ভাঙল রুশ সেনা বিমান, মৃত ৯২

সংবাদ সংস্থা
মস্কো ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬ ০৩:৪৯
কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে রুশ বাহিনী। ছবি: রয়টার্স।

কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে রুশ বাহিনী। ছবি: রয়টার্স।

সিরিয়া যাবে বলে মস্কো ছেড়েছিল তুপোলেভ-১৫৪। বিমানে ছিল রুশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব সঙ্গীত দল— ‘রেড আর্মি কয়ার’। উপকূলবর্তী শহর সোচি থেকে তেল নিয়ে ওড়ার মিনিট দুয়েকের মধ্যে কন্ট্রোল রুমের রেডার থেকে উধাও হয়ে যায় বিমানটি। কিছু ক্ষণের মধ্যে জানা যায়, কৃষ্ণ সাগরে ভেঙে পড়েছে সেটি।

সিরিয়াগামী রুশ সেনা বিমান! ফলে প্রথমেই ভাবা হয়েছিল, এটি নিশ্চয় জঙ্গি হানা। কিছু ক্ষণের মধ্যে অবশ্য মস্কো থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা। ৪৪ বছরের পুরনো বিমান ব্যবহার করার খেসারত দিতে হচ্ছে সেনাবাহিনীকে। যেমন দিতে হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে, মিগ যুদ্ধ বিমান ব্যবহার করার জন্য।

কী হয়েছিল এ দিন?

Advertisement

রবিবার মস্কো থেকে পশ্চিম সিরিয়ার মেইমিম বিমানঘাঁটির উদ্দেশে রওনা দেয় টিইউ-১৫৪ বিমানটি। অ্যাডলারের কন্ট্রোল রুম সূত্রের খবর, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত তাদের সঙ্গে বিমানচালকের স্বাভাবিক কথাবার্তা হচ্ছিল। আবহাওয়াও ছিল পরিষ্কার। সিরিয়ার যে মেইমিম ঘাঁটিতে যাচ্ছিল বিমানটি, সেটি ব্যবহার করেই সিরিয়ায় বিমান হানা চালায় মস্কো। ফলেএটি জঙ্গি হামলা কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু সেনাবাহিনীর তরফ থেকে জঙ্গিহানার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হয়।

সেনা সূত্রের খবর, টিইউ-১৫৪ বিমানে এর আগেও বহু দুর্ঘটনা হয়েছে। ২০১০-র এপ্রিলে পশ্চিম রাশিয়ার স্মোলেনস্ক বিমানবন্দরে নামার সময় ভেঙে পড়েছিল একটি টিইউ-১৫৪ বিমান। সেই বিমানে ছিলেন পোলান্ডের প্রেসিডেন্ট ও সে দেশের বেশ কয়েক জন শীর্ষ কর্তা। কাউকেই বাঁচানো যায়নি। যে বিমানটি আজ ভেঙে পড়েছে, গত বছর ডিসেম্বর মাসে বিমানটিতে অনেক মেরামতির কাজ হয়েছিল। তার পর এই সেপ্টেম্বরে সেটির ফের সার্ভিসিং হয়। ফলে যান্ত্রিক ত্রুটিই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে সেনাবাহিনী। ভারতীয় বায়ুসেনার মিগ যুদ্ধবিমান নিয়েও যান্ত্রিক ত্রুটির নানা অভিযোগ উঠেছে। মাঝ আকাশে দুর্ঘটনার মুখে পড়েছে বহু মিগ। প্রাণ হারিয়েছেন বহু ভারতীয় বায়ুসেনা অফিসার।

এ দিন রুশ বিমানটিতে ৮ জন বিমানকর্মী ও ৮৪ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে ৬৪ জনই রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গীতশিল্পী। সিরিয়ায় যে রুশ সেনারা রয়েছেন, তাঁদের জন্য নববর্ষের বিশেষ অনুষ্ঠান করতে মেইম ঘাঁটিতে যাচ্ছিল এই ‘রেড আর্মি কয়ার’। সোচির উপকূল থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। তবে উদ্ধার করা হয়েছে মাত্র চারটি দেহ। আগামী কাল ‘শোক দিবস’ ঘোষণা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

আরও পড়ুন

Advertisement