প্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে গত কাল সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেখলেন, তাঁর দেশে অনাবাসীদের জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্বের অধিকারের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন অনাবাসী এক বাঙালি।
ট্রাম্প নির্দেশ জারি করেছিলেন, বাবা-মা আমেরিকান না হলে অথবা তাঁদের মধ্যে কারও গ্রিন কার্ড না থাকলে সন্তানেরা আর আমেরিকায় জন্মালেই আমেরিকান নাগরিক হবে না। নিম্ন আদালত এই নির্দেশ আটকে দেওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানেই সরকারের নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান মুখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী স্মিতা ঘোষ। আমেরিকান সংবিধানের যে চতুর্দশ সংশোধনীর সুবাদে সে দেশে জন্মানো বিদেশি শিশুরাও নাগরিকত্ব পায়, সেটিকেই বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন স্মিতা। সাংবিধানিক আইন ও সরকারি নীতির বিশেষজ্ঞ তিনি। কাজ করেন নাগরিকত্ব, অভিবাসন, নাগরিক অধিকারের মতো বিষয় নিয়ে।
সচরাচর প্রচারের আলো এড়িয়ে চলেন বলে স্মিতার ব্যক্তিগত জীবনের খবরাখবর সে ভাবে প্রকাশ্যে নেই। ঢালাও সাক্ষাৎকারও দেন না। আইনের ডিগ্রির পাশাপাশি পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমেরিকার ইতিহাস নিয়ে পিএইচ ডি করেছেন তিনি। সহকর্মীরা বলেন, এই জন্যই স্মিতার সওয়ালে শুধুই আইনি মারপ্যাঁচ নয়, থাকে ইতিহাসবিদের দৃষ্টিভঙ্গিও। যেমন, তিনি দেখিয়ে দেন, ১৯৪০ সালের আমেরিকান নাগরিকত্ব আইনেই বলা হয়েছিল, আমেরিকার মাটিতে পরিত্যক্ত কোনও শিশুও আমেরিকান নাগরিক। তেমনই এই মামলার উপরেও নির্ভর করছে বহু শিশুর ভবিষ্যৎ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)