×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মে ২০২১ ই-পেপার

গরমে ফুটছে উত্তর মেরুর শীতলতম শহর

সংবাদ সংস্থা
মস্কো ২৩ জুন ২০২০ ০৫:১৩
রক্ষা: ত্রিপল দিয়ে ঢাকা হচ্ছে উত্তর ইটালির প্রেসেনা হিমবাহ। এএফপি

রক্ষা: ত্রিপল দিয়ে ঢাকা হচ্ছে উত্তর ইটালির প্রেসেনা হিমবাহ। এএফপি

বছরের এই সময়টায় সাধারণত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে মেরেকেটে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর মেরু বলয়ের ভেরখোয়ানস্ক শহর অবশ্য গত শনিবার তাপমাত্রার সব রেকর্ড ভেঙেচুরে ছারখার করে দিয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সে দিন ওই শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গরম কালে যে তাপমাত্রায় আকছার অভ্যস্ত কলকাতা বা দিল্লির মতো শহরের বাসিন্দারা।

প্রথমে এই পরিসংখ্যানকে একটু সন্দেহের চোখেই দেখা হচ্ছিল। ভাবা হয়েছিল, হয়তো তাপমাত্রা নিতে যন্ত্রের কোনও গোলমাল হয়েছে। কিন্তু তার পরের দিনই, অর্থাৎ গত কাল ভেরখোয়ানস্কের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত দু’দিনের এই রেকর্ড গরম দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের।

মস্কো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভেরখোয়ানস্ক শহর উত্তর মেরুবৃত্তের অন্যতম শীতল এলাকা। শীতকালে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় অভ্যস্ত এখানকার বাসিন্দারা। চরম আবহাওয়ার কারণে শহরে বাসিন্দার সংখ্যাও কম। ১৩০০ মতো। জুন মাসে হঠাৎ এই তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বস্তুত গত সপ্তাহেই ভেরখোয়ানস্কের উত্তর-পূর্বে প্রায় এগারোশো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত চেরস্কি শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছয়। তখন থেকেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বিশ্বের অন্য অংশের তুলনায় উত্তর মেরুতে অনেক দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে। উষ্ণায়নই এর জন্য দায়ী বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

মূলত গোটা সাইবেরীয় অঞ্চলই অতি দ্রুত বরফ গলার জন্য সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়ে। সেখানকার ভূগর্ভস্থ চিরহিমায়িত অঞ্চল (পারমাফ্রস্ট) উষ্ণ হয়ে ওঠায় গত মাসেই নরিলস্ক শহরের একটি ডিজেল ভর্তি ট্যাঙ্ক ফুটো হয়ে যায়। সাড়ে সতেরো হাজার টন তেল পড়ে দূষিত করে দেয় স্থানীয় একটি নদীকে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ওয়ার্ল্ড মেটিয়োরোলজিকাল অর্গানাইজেশন-ও। সংস্থার তরফে একটি ই-মেল বার্তায় জানানো হয়েছে, এ এক নতুন চরমভাবাপন্ন জলবায়ু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য বরফ গলছে ইটালির প্রেসেনা হিমবাহেরও। ১৯৯৩ সাল থেকে এই হিমবাহের প্রায় এক তৃতীয়াংশ গলে গিয়েছে। হিমাবাহটিকে বাঁচাতে এ বার তাই এক বিশেষ ধরনের ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৭০ মিটারX ৫ মিটার আয়তনের বেশ কয়েকটি ত্রিপল জুড়ে তার উপরে চাপানো হয়েছে বালির বস্তা। যাতে সূর্যের আলো হিমবাহে সরাসরি ঢুকে তাকে দ্রুত গলিয়ে দিতে না পারে।

আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: নিয়ন্ত্রণরেখায় শক্তিতে ভারত-চিন কে কোথায় এগিয়ে

Advertisement