Advertisement
E-Paper

ও আসছে মা, মরে যাব, শেষ মেসেজ

রাত দু’টো বেজে ছয়। ছেলের টেক্সটে ঘুম ভেঙে যায় মিনা জাস্টিসের। ছেলে এডি লিখেছিলেন, ‘মমি, তোমাকে ভালবাসি। ক্লাবে একজন গুলি চালাচ্ছে।’ আধো ঘুমেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছিল মিনার। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোন করেন ছেলেকে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৪ জুন ২০১৬ ০৯:৪৫
মতিনের প্রাক্তন স্ত্রী সিতোরা ইউসুফি। ছবি: পিটিআই

মতিনের প্রাক্তন স্ত্রী সিতোরা ইউসুফি। ছবি: পিটিআই

রাত দু’টো বেজে ছয়। ছেলের টেক্সটে ঘুম ভেঙে যায় মিনা জাস্টিসের। ছেলে এডি লিখেছিলেন, ‘মমি, তোমাকে ভালবাসি। ক্লাবে একজন গুলি চালাচ্ছে।’ আধো ঘুমেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে গিয়েছিল মিনার। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ফোন করেন ছেলেকে। বারবার বাজলেও ফোন ধরেননি এডি। মিনা এ বার ছেলেকে লেখেন, ‘তুমি এখনও ওখানে? ঠিক আছো তো?’ মিনিট খানেকের মাথায় আবার মেসেজ। এডি লিখেছেন, ‘আমি বাথরুমে আটকে।’ মিনা এ বার ক্লাবের নামটা জিজ্ঞেস করেন এডিকে। জবাব আসে, ‘অরল্যান্ডোর প্রাণকেন্দ্রে, পালস’। মা লিখে চলেছেন, ‘পুলিশকে ফোন করো। দয়া করে ফোনটা ধরো। আমায় ফোন করো। ওখান থেকে বেরিয়ে এসো’।

শুধু মেসেজ লেখা নয়, আতঙ্কিত মিনা তত ক্ষণে ৯১১-এ ফোন করে ফেলেছেন। কিন্তু এডির টেক্সট থামছে না। দু’টো উনচল্লিশ মিনিটে এডি লিখলেন, ‘ওদের (পুলিশকে) ফোন করো মমি, এক্ষুনি। ও (বন্দুকবাজ) আসছে। আমি মরে যাব এ বার’। মিনিট দশেক বাদে ফের মেসেজ, ‘ও এখন আমাদের সঙ্গেই। বাথরুমে। আমাদের সকলকে ধরে ধরে মারবে’। মিনা তখন জানতে চান, বন্দুকবাজ কি সত্যিই বাথরুমে ঢুকে পড়েছে। উত্তর পান, ‘ও একটা সন্ত্রাস। হ্যাঁ।’

এটাই মাকে লেখা এডির শেষ মেসেজ। তার পর আর ছেলেকে ফোনে পাননি মিনা।

Advertisement

রবিবার ভোরের দিকে পুলিশ যখন পালস থেকে একের পর এক রক্তাক্ত দেহ বার করে আনছে, তার মধ্যে ছিল পেশায় অ্যাকাউন্ট্যান্ট, বছর তিরিশের এডি জাস্টিসের দেহটাও। পুলিশ আজ জানিয়েছে, অরল্যান্ডোর সমকামী নাইটক্লাবে গুলি চালনার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪৯। কাল যে ৫০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হচ্ছিল, সেটা বন্দুকবাজ ওমর মতিনকে ধরে। নিহত ৪৯ জনের মধ্যে ৪৮ জনের নামও প্রকাশ করেছে পুলিশ। তবে তাদের বক্তব্য, এখনও বেশ কয়েক জন আহতের অবস্থা সঙ্কটজনক। তাই বাড়তে পারে নিহতের সংখ্যা।

এলজিবিটিদের জন্য ২০০৪ সালে এই নাইটক্লাবটি খুলেছিলেন রন লেগলার নামে এক যুবক। সঙ্গী ছিলেন তাঁর ইতালীয় বন্ধু বারবারা পোমা। বারবারার সমকামী ভাই এড্‌সে মারা যান। তাঁর সম্পর্ককে মানেনি তাঁদের পরিবার। ভাইয়ের স্মৃতিতেই পালস গড়ে তোলার কথা মাথায় আসে বারবারা-র। শনিবার রাতে একটা বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে। রং-বেরঙের ককটেলের সঙ্গে জমজমাট লাতিন নাচ। বাজনা ছিল আরও জোরালো। ফলে মতিন গুলি চালানো শুরু করলে প্রথমে অনেকে সেটা বুঝতেই পারেননি। ভেবেছিলেন বাজনারই অংশ।

কিছু ক্ষণের মধ্যে ভুল ভাঙে। ভিতরে তখন প্রায় তিনশো লোক। গুলির একটানা শব্দে সকলেই তখন আতঙ্কিত হয়ে ছুটোছুটি শুরু করে দিয়েছেন। কেউ এডির মতোই বাথরুমে গিয়ে লুকিয়েছিলেন, কেউ বা ডিজে রুমের ভিতরে ঢুকে গুলিবৃষ্টি থেকে নিজেকে বাঁচিয়েছেন।

গত সপ্তাহের শেষে পালসের কাছেই এক কনসার্ট হলে বন্দুকবাজের গুলিতে মৃত্যু হয়েছিল তরুণী গায়িকা ক্রিশ্চিয়ানা গ্রিমির। তার রেশ কাটতে না কাটতেই মতিনের বন্দুক তছনছ করে দিয়েছে পালসকে। ‘‘স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে তো বেশ নিরাপদেই ছিলাম। কিন্তু চেনা অরল্যান্ডোই এখন অচেনা লাগছে। এখানে কী ভাবে থাকব, বুঝতে পারছি না,’’ বললেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। রবিবার সকালেই আবার জেমস ওয়েসলি হওয়েল (২০) নামে এক সশস্ত্র যুবককে গ্রেফতার করেছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পুলিশ। তারা প্রথমে জানিয়েছিল, পশ্চিম হলিউডের ‘গে প্রাইড প্যারেডে’ হামলার উদ্দেশ্য ছিল ধৃতের। তিনটি অ্যাসল্ট রাইফেল উদ্ধার হয়েছে তার কাছ থেকে। পরে অবশ্য পুলিশ দাবি করে, জেমস তাঁর বয়ান পাল্টেছেন।

Orlando Massacre Meena Last Message
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy