আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু সেই ভোটে স্বাধীন ও চাপমুক্ত ভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশেরই একাংশ চিন্তিত। প্রশাসনকে সে কথা জানিয়েও দিয়েছে পুলিশ বিভাগ।
চলতি মাসের প্রথম দিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সূত্রের খবর, সেখানে ভোটের সময় দায়িত্ব পালনে পূর্ণ স্বাধীনতা ও সহযোগিতার বিষয়টি তোলেন আইপিজি বাহারুল আলম। সূত্রের দাবি, তিনি বৈঠকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল ও সরকারের সহযোগিতা না পেলে ভোটের দিন চাপমুক্ত ভাবে কাজ করা কঠিন। না হলে পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও তলানিতে ঠেকবে।
পুলিশ-প্রশাসন সূত্রের খবর, বাহিনীর শীর্ষ স্তরের অফিসারদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলি জয়ের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাবে। ফলে নির্বাচন পর্ব সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভাবে সমাধা করতে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। তখন সরকার যদি পুলিশকে পিছু হটার নির্দেশ দেয়, তা হলে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
ঢাকা রেঞ্জের এক পুলিশ অফিসার বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘‘২০২৪ সালের ৫ অগস্টের পর থেকে এক দল লোক পুলিশ বাহিনী মানতে চাইছে না। তারা মনে করে, অন্যায় করলেও এই পুলিশের কিছু বলার অধিকার নেই। ওই শ্রেণির লোকজনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করলেই, তারা সমস্যা তৈরি করছে।’’ ওই অফিসারের যুক্তি, ভোটে কেউ অশান্তি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা যদি না থাকে, তা হলে পুলিশের থাকা, না-থাকা সমান।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন অফিসারদের মতে, ছোট ছোট ঘটনায় ছাড় দিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা বড় গোলমাল বাধানোর সাহস পায়। তাই কোনও অশান্তি বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে খবর, আসন্ন নির্বাচনে দেশে ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে অতি স্পর্শকাতর ৮ হাজার ৭৭০টি এবং স্পর্শকাতর ১৬ হাজার ৬৭৫টি। ঢাকা বিভাগ ও ঢাকা মহানগরে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আর জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে চট্টগ্রামে।
প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘পুলিশকে যদি আইন অনুযায়ী স্বাধীন ভাবে দায়িত্ব পালন করতে না দেওয়া হয়, তা হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নেওয়া সব আয়োজনই ব্যর্থ হয়ে যাবে।’’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ তৌহিদুল হক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘নির্বাচনে পুলিশকে মাঠে নামিয়ে কাজের স্বাধীনতা না দিলে, কোনও লাভ না। যে-ই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশকে পুলিশের মতো কাজ করতে দেওয়া উচিত।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)