Advertisement
E-Paper

ধর্মের ছোঁয়া নেই, দেশকে নিরাপদ করতেই নির্দেশ, ফের দাবি ট্রাম্পের

সময়টা ২০১৫-র ডিসেম্বর। সে বার প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ‘‘আমেরিকায় আর এক জন মুসলিমকে ঢুকতে দেব না। সব সীমান্ত বন্ধ করে দেব।’’ আর আজ বলছেন, ‘‘আমি কোনও ভাবেই মুসলিমদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা বলিনি।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০১৭ ০৩:১০
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার। ছবি: রয়টার্স

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার। ছবি: রয়টার্স

সময়টা ২০১৫-র ডিসেম্বর। সে বার প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, ‘‘আমেরিকায় আর এক জন মুসলিমকে ঢুকতে দেব না। সব সীমান্ত বন্ধ করে দেব।’’ আর আজ বলছেন, ‘‘আমি কোনও ভাবেই মুসলিমদের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপানোর কথা বলিনি। আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধের সঙ্গে ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই। দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত, নিরাপদ রাখতেই এই নির্দেশ।’’

শুক্রবারের এক প্রশাসনিক নির্দেশে ৭টি মুসলিম দেশকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করার পর থেকে নানা ভাবে এটাই বলার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টিভি-সাক্ষাৎকারের পর টুইটারে। লিখিত বিবৃতিও দিয়েছেন। তবু বিক্ষোভ বাড়ছে। বাইরে তো বটেই, অন্দরেও। শনিবার দিনভর বিক্ষোভ চলেছে একাধিক মার্কিন বিমানবন্দরে। রবিবার বিক্ষোভ হয় হোয়াইট হাউসের সামনেও।

আগের রবিবার হোয়াইট হাউসে স্লোগান উঠেছিল, ‘‘এই প্রেসিডেন্ট আমাদের নয়।’’ ট্রাম্প তখন সবে দু’দিন হল হোয়াইট হাউসে এসেছেন। আর এ দিনের প্ল্যাকার্ডে চোখে পড়ল— ‘‘ভয়ে আর হিংসায় কুঁকড়ে থাকা এ আমেরিকা আমার নয়।’’ গোটা বিশ্বের শরণার্থীদের ‘স্বাগত’ জানানো পোস্টারে মুখ ঢাকল নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি, বস্টনের লোগান বিমানবন্দর। নিউ ইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের বিক্ষোভ এ দিন বেশ বড় আকার নেয়।

আজ এক লিখিত বিবৃতি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন, মুসলিম শরণার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং দেশের নিরাপত্তার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘৯০ দিনের মধ্যে সব যাচাই-বাছাই করে সব থেকে নিরাপদ নীতির মাধ্যমে আমেরিকার দরজা খুলে দেওয়া হবে। আর তা সকলের জন্যই।’’ যদিও সিরিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি প্রেসিডেন্ট।

কিন্তু গ্রিন-কার্ডধারীদের কী হবে? অভিযোগ, ট্রাম্পের নির্দেশিকা সইয়ের পর তাঁদেরও বেশ কয়েক জনকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি আমেরিকায়। অথচ গ্রিন কার্ড থাকা মানে, ভিন দেশে জন্ম হলেও তাঁরা এ দেশেরই স্থায়ী বাসিন্দা। এই মর্মেই তাঁদের বৈধ কাগজপত্র দেয় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি। গত কালই হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘‘জাতীয় স্বার্থেই গ্রিন-কার্ডধারীদের পাশে দাঁড়াবে আমাদের প্রশাসন। বৈধ বাসিন্দাদের হেনস্থা করার প্রশ্নই উঠছে না। অবশ্যই এঁদের প্রবেশাধিকার রয়েছে।’’

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কোনও কালেই ভাল নয়। আজ আবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘‘সবটাই সংবাদমাধ্যমের অপপ্রচার। না হলে, বিশ্বে তো আরও ৪০টি মুসলিম-দেশ রয়েছে। তারা তো এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে না!’’ তাঁর দাবি, দেশকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও ২০১১-য় ছ’মাসের জন্য ইরাকি শরণার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিলেন। দাবিটি অবশ্য ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন ওবামা প্রশাসনের চিফ অব স্টাফ জোনাথন ফিনার। তিনি আজ বলেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পূর্ণ ভুল কথা বলছেন। ওবামার আট বছরেরর জমানায় একটা মাসও যায়নি, যখন এ দেশে ইরাক থেকে শরণার্থীরা আসেননি।’’

এ দিকে দেশের শিল্প-জগতের প্রায় সব মাথাই ট্রাম্প বিরোধিতায় মুখ খুলতে শুরু করেছে। ফেসবুক, গুগল, মাইক্রোসফটের পরে এ বার সে তালিকায় জুড়ল মার্কিন কফি-চেন স্টারবাক্‌সের নাম। সংস্থার চেয়ারম্যান তথা সিইও আজ প্রেসিডেন্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েই জানালেন, পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ হাজার শরণার্থীকে চাকরি দেবে তাঁর সংস্থা।

Donald Trump Religion
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy