Advertisement
E-Paper

‘অতিদক্ষেরা আসুন’, প্রস্তাব প্রেসিডেন্টের

মেধা ও যোগ্যতা এবং ‘পয়েন্ট’ ভিত্তিক নীতি এনে ট্রাম্প অতীতের গ্রিন কার্ডের পরিবর্তে শোনালেন ‘বিল্ড আমেরিকা’ ভিসার কথা।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০১৯ ০২:১৩
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

ইঙ্গিত যেমন ছিল, সে পথেই এগোলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন সংক্রান্ত নয়া নীতি।

হোয়াইট হাউসের রোজ় গার্ডেন থেকে অভিবাসন সংস্কারের যে সব কথা তিনি বললেন, তাতে আপাত ভাবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতীয়দের উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মেধা ও যোগ্যতা এবং ‘পয়েন্ট’ ভিত্তিক নীতি এনে ট্রাম্প অতীতের গ্রিন কার্ডের পরিবর্তে শোনালেন ‘বিল্ড আমেরিকা’ ভিসার কথা। প্রস্তাব অনুযায়ী, অল্পবয়সি, অতি-দক্ষ কর্মীদের জন্য এ বার অভিবাসনের সুযোগ ১২ শতাংশ থেকে ৫৭ শতাংশ করা হবে। প্রেসিডেন্টের দাবি, এই সুযোগ আরও উপরে নিয়ে যেতে চান তিনি। আর এই প্রস্তাব পাশ হলে হাজার হাজার ভারতীয় পেশাদার ভবিষ্যতে এর সুফল পেতে পারেন।

তবে ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাই জ্যারেড কুশনারের মস্তিষ্কপ্রসূত ভিসা নীতির এই সংস্কারে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জমানার ‘ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস প্রোগ্রাম’-এর (সংক্ষেপে ডাকা বলে পরিচিত) কোনও উল্লেখ নেই। ডেমোক্র্যাটরা বারবার এই বিষয়টি নিয়ে সমাধানসূত্র বার করার জন্য চাপ বাড়িয়েছেন রিপাবলিকানদের উপরে। আমেরিকায় অনুপ্রবেশকারী অভিভাবকদের সঙ্গে আসা শিশুদের জন্য ওই প্রকল্পের কথা ভেবেছিলেন ওবামা। ট্রাম্প ‘ডাকা’ নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি। বুঝিয়েছেন, এত দিন ধরে চলে আসা অভিবাসনের ‘ভাঙা’ নীতির জেরে বিশ্ব জুড়ে প্রতিভাবান অসংখ্য যুবক বঞ্চিত হয়েছেন। তাই এ বার মেধা ও যোগ্যতা-নির্ভর অভিবাসনের প্রস্তাব দিচ্ছেন তাঁরা।

এখন থেকে আমেরিকায় পাকাপাকি ভাবে থাকার সুযোগ নির্ভর করবে বয়স, জ্ঞান, চাকরির সুযোগ, সামাজিক সচেতনতা এবং অবশ্যই ইংরেজি ও অন্য পরীক্ষায় পাশের ভিত্তিতে পাওয়া পয়েন্টের উপরে। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘আমরা প্রতিভাবান, বুদ্ধিমানদের এত দিন সুযোগ দিইনি। এখন এই নয়া নীতি দ্রুত পাশ হয়ে গেলে আর সেটা হবে না। আমরা চাই ব্যতিক্রমী পড়ুয়া এবং কর্মীরা আমেরিকায় থাকুন এবং উন্নতি করুন।’’ ট্রাম্পের মতে, ‘‘অতীতের নিয়ম সংবেদনশীল না হওয়ায় ডাক্তার, গবেষক, ছাত্র— যাঁরা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সব কলেজ থেকে প্রথম হয়ে এসেছেন, তাঁদের আমরা গুরুত্ব দিতে পারিনি।’’ প্রেসিডেন্ট মনে করছেন, এই কারণে এক দশকেরও বেশি সময়ে গ্রিন কার্ড গিয়েছে স্বল্প দক্ষ স্বল্প বেতনের বিদেশি কর্মীর হাতে। যাঁরা সাধারণ মার্কিন নাগরিককে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলেছেন এবং তাতে সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

নয়া প্রস্তাবে আমেরিকায় আত্মীয় থাকার সুবাদে পারিবারিক যোগসূত্র কাজে লাগিয়ে অভিবাসনের পথ আর সুগম থাকছে না। ট্রাম্প যদিও বলেছেন, ‘‘অভিবাসনে বৈচিত্র বাড়বে। গ্রিন কার্ডের বদলে বিল্ড আমেরিকা ভিসা সেই পরিবর্তন আনবে।’’

অভিবাসন সংস্কারের সঙ্গেই এসেছে প্রাচীর তোলার প্রসঙ্গও। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, কুশনারের সংস্কার পরিকল্পনার প্রথমেই ছিল—সীমান্তে সুরক্ষা বাড়ানো। এ ছাড়া, মার্কিন বেতন বাঁচানো এবং দারুণ দক্ষ অভিবাসীদের ধরে রাখা। ট্রাম্প বরাবরের মতো এ দিনও বলেছেন, ‘‘প্রাচীরটা যে কোনও মূল্যে দরকার।’’

যদিও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্যালিফর্নিয়ার সেনেটর কমলা হ্যারিস বলেছেন, অভিবাসন নিয়ে ট্রাম্পের সংস্কার পরিকল্পনা একেবারেই অদূরদর্শী ভাবনা। ডেমোক্র্যাটরা এর বিরোধিতাই করবেন। তাঁর কথায়, ‘‘তুমি দরজা খুলে ঢুকলে, তার পর জানলে তুমিও আর পাঁচ জনের মতোই— এটাই আমাদের দেশের সৌন্দর্য। স্বাধীনতার সময় থেকে আমরা বলে আসছি, ‘আমরা সমান’। আর সেটাই হওয়া উচিত। তার বদলে তুমি অমুক জায়গা থেকে এসেছো, তাই তোমার জন্য এত পয়েন্ট। আর অন্য জায়গা থেকে এলে তোমার আলাদা পয়েন্ট। এটা কী ভাবে হয়!’’ নেভাডায় এশীয়-মার্কিন গোষ্ঠীর একটি অনুষ্ঠানে হ্যারিসের দাবি, পারিবারিক ভাবে অনেক এশীয়ই মার্কিন অভিবাসনের সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নিজেও তাই। তাঁর মা ভারতীয়, বাবা জামাইকার নাগরিক। ২০২০ সালে ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নামছেন তিনি। অভিবাসন তাঁর পথের বাধা হয়নি। কমলা বলেছেন, ‘‘কে কী করতে পারে, এবং কী ভাবে করতে পারে, সেটাই বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।’’

Donald Trump Immigration US Indians Visa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy