রুশ ফৌজের ড্রোন হামলা ঠেকাতে এ বার মাছ ধরার জালকে হাতিয়ার করেছে ইউক্রেন ফৌজ। বিশেষত সে দেশের প্রধান সড়কগুলিকে রক্ষা করতে ঘেরা হচ্ছে মাঝ ধরা জালের ‘বর্মে’! ডেনমার্ক এবং সুইডেন-সহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন দেশের মাছ ধরার জাহাজগুলির বাতিল জাল এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানাচ্ছে।
গত বছর থেকেই থেকেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির বাহিনী রুশ ড্রোন হামলা প্রতিরোধে মাছধরা জাল ব্যবহারের অভিনব পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছিল। তা যথেষ্ট কার্যকর হয়েছে বলে প্রকাশিত রিপোর্টে দাবি। মূলত, দু’ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সমুদ্রে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত সেই সব শক্তপোক্ত জাল— প্রথমত, আত্মঘাতী ড্রোনের হামলা ঠেকাতে। দ্বিতীয়ত, নজরদারি ও বোমা-ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ড্রোন ধরার ফাঁদ হিসেবে। রুশ ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্য ইউক্রেনীয় সেনার রসদ সরবরাহের পথ ও ঘাঁটি। সামনের সারির ইউনিটগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়াই এমন হামলার উদ্দেশ্য। এই পরিস্থিতিতে ‘জীবনের রাস্তা’ রক্ষা করতে ঘেরা হচ্ছে জাল।
আরও পড়ুন:
এর পাশাপাশি সেনাঘাঁটি, হাসপাতাল এমনকি, বেসামরিক এলাকাতেও নিয়মিত ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পরিস্থিতিতে অসামরিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলি ঘিরে ইস্পাতের খুঁটি বা গাছ থেকে জাল টাঙাচ্ছে ইউক্রেন সেনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রুশ আত্মঘাতী ড্রোন সেই জালে আটকে গিয়ে ফেটে যাচ্ছে। ফলে বড় ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে। এ ছাড়া, উঁচু গাছ বা শহরাঞ্চলের বহুতলে উল্লম্ব ভাবে জাল টাঙিয়ে ‘ড্রোন ধরার ফাঁদ’ হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রুশ হামলার অন্যতম নিশানা খেরসন শহরের সামরিক প্রশাসনের উপপ্রধান ওলেজান্দার টোলোকোননিকভ সিএনএন প্রতিনিধিকে বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন রাস্তা ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল সুরক্ষিত করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ সড়ক জালের মাধ্যমে সুরক্ষিত করা হয়েছে।’’