Advertisement
E-Paper

রক্ত ঝরছিল নাক থেকে, কারও রক্তবমি! মাদুরোকে অপহরণে ‘রহস্যময় অস্ত্র’ প্রয়োগ মার্কিন বাহিনীর, দাবি ভেনেজ়ুয়েলা সেনার

এক সেনাকর্মীর দাবি, ‘‘প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে এল। নিখুঁত নিশানা। ওই সময়ে মনে হচ্ছিল যেন, প্রতি মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ধেয়ে আসছে।’’

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৫৯
ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ছবি: রয়টার্স।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে নিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ছবি: রয়টার্স।

ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণে রহস্যময় অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল মার্কিন বাহিনী। নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত সে রকমই দাবি করেছেন প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক সেনাকর্মী। মার্কিন বাহিনীর মাত্র ২০ জন সেনার কাছে কী ভাবে মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা বিশাল বাহিনী কাবু হল, অল্প সংখ্যক সেনার সঙ্গে কেন এঁটে উঠতে পারল না মাদুরো-বাহিনী, সেই প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে ‘রহস্যময় অস্ত্রের’ বিষয়টি জানান ভেনেজ়ুয়েলার ওই সেনাকর্মী।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘‘সামরিক অভিযান হওয়ার আগে পর্যন্ত কিছু টের পাওয়া যায়নি। কোনও আঁচ পর্যন্ত পায়নি প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় থাকা বাহিনী। সব কিছু স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ আমাদের রেডার ব্যবস্থা অকেজো হয়ে যায়। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কী হচ্ছে।’’ ওই সেনাকর্মী জানান, আচমকাই প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের আশপাশে একটি, দু’টি ড্রোন উড়তে দেখা গেল। তখনও বোঝা যায়নি পর মুহূর্তে কী ঘটতে চলেছে। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই দেখলাম এক ঝাঁক ড্রোন উড়ে আসছে প্রেসিডেন্টের সেফ হাউসের দিকে। তার পরই ৮-১০টি হেলিকপ্টার দেখা গেল। সেই কপ্টারগুলি থেকে ২০ জন মতো নেমে এলেন। আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। তার পরই রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল প্রেসিডেন্টের সেফ হাউস।’’

ওই সেনাকর্মীর দাবি, ‘‘প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন ছিল। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে এল। নিখুঁত নিশানা। ওই সময়ে মনে হচ্ছিল যেন, প্রতি মিনিটে ৩০০ রাউন্ড গুলি ধেয়ে আসছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের সেনাকর্মীরা এক এক করে লুটিয়ে পড়েন।’’ তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষণ পরই জোরালো একটি আওয়াজ শোনা গেল। এতটাই জোরালো যে, মনে হচ্ছিল মাথা ফেটে যাবে। তার পরই নাক থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। কারও কারও রক্তবমি শুরু হয়। তার পরই এক এক করে মাটিতে পড়ে যেতে থাকেন মাদুরোর নিরাপত্তায় থাকা সেনাকর্মীরা। সেনাকর্মীর কথায়, ‘‘পুরো ঘটনাটি এত অল্প সময়ের মধ্যে হয়েছিল যে, কিছু করে উঠতে পারিনি আমরা। ওই ২০ জন মার্কিন সেনার সঙ্গে লড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। যে কৌশল, যে অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার সঙ্গে এঁটে ওঠা সম্ভব হচ্ছিল না।’’ গোটা অভিযান মাত্র আধঘণ্টায় শেষ করেছিল মার্কিন বাহিনী। তবে মাদুরোর বিশাল বাহিনীকে কুপোকাত করতে যে আমেরিকা ‘রহস্যময় অস্ত্র’ প্রয়োগ করেছিল, সেটি জোর গলায় দাবি করেছেন ওই সেনাকর্মী।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভেনেজ়ুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করে আমেরিকায় নিয়ে আসে মার্কিন সেনা। মাদুরো এখন নিউ ইয়র্কের জেলে বন্দি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই ভেনেজ়ুয়েলার বিরুদ্ধে মাদকসন্ত্রাস এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলছিলেন ট্রাম্প। বার বার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হয়নি। তার পরই ভেনেজ়ুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে বন্দি করে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছেন ট্রাম্প।

Nicolas Maduro
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy