Advertisement
E-Paper

‘ওরা চুক্তি মেনে কাজ না করলে আমিও দেখে নেব কী করা যায়!’ আমেরিকার কাছ থেকে কৃষিপণ্য কিনতে ইরানকে চাপ ট্রাম্পের

ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার ক্ষেত্র ‘শর্ত’ চাপিয়েছে আমেরিকা। বলেছে, ওই সম্পদ শুধু আমেরিকার কাছ থেকে খাদ্যশস্য কিনতেই খরচ করা যাবে। তবে ইরানের দাবি, চুক্তিতে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬ ০৮:৩৫
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

চুক্তির ‘শর্ত’ মেনে চলার জন্য ইরানকে চাপে রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান চুক্তি মেনে না চললে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। জানিয়েছেন, এমন কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে তাঁর যেটা করা দরকার, তিনি সেটাই করবেন।

সুইৎজ়ারল্যান্ডে প্রাথমিক বৈঠকের পরে আমেরিকা এবং ইরান দু’দেশই আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছোনোর বিষয়ে রাজি হয়েছে। সেই অনুযায়ীই পরবর্তী আলোচনা চলবে। প্রাথমিক পর্বের বৈঠকের পর ইরানকে বেশ কিছু ছাড় দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। ইরানি তেলের উপর নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের আটকে থাকা ১২০০ কোটি ডলারের সম্পদ এবং তহবিল মুক্ত করার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে আলোচনায়।

এ অবস্থায় চুক্তির ‘শর্ত’ নিয়ে তেহরানকে সতর্ক করে দিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “যদি ইরান চুক্তি মেনে না চলে, বা যদি ওরা ঠিকমতো আচরণ না করে, তা হলে যা করার দরকার, আমি তাই করব।” ইরানের আটকে থাকা তহবিল মুক্ত করার ‘শর্ত’ প্রসঙ্গেই মূলত এই মন্তব্য করেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, মুক্ত হওয়া সম্পদ শুধুমাত্র আমেরিকার কাছ থেকে খাদ্যসামগ্রী কেনার কাজেই ব্যবহার করার কথা ছিল ইরানের। তিনি বলেন, “ওদের (ইরানের) খাদ্যসামগ্রী কেনা অত্যন্ত প্রয়োজন। ওদের ৯ কোটি ১০ লক্ষ সাধারণ মানুষ রয়েছে। তাদের ওরা খেতে দিতে পারছে না। ওরা খাদ্যসামগ্রী কিনলে সেই অর্থ আবার আমাদের কাছে ফিরে আসবে। ওই অর্থ আমাদের কৃষকদের কাছে যাবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে়ডি ভান্স জানিয়েছেন, কাতারের (সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারী অন্যতম দেশ) সঙ্গে আমেরিকা একটি যৌথ প্রস্তাব নিয়ে কাজ চালাচ্ছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের সম্পদ মুক্ত করা হলে তার নিয়ন্ত্রণ থাকবে আমেরিকা এবং কাতারের হাতে। মুক্ত হওয়া সম্পদ আমেরিকা থেকে সয়াবিন, ভুট্টা এবং অন্য খাদ্যশস্য কিনতে খরচ করবে ইরান। এর ফলে ইরানের সাধারণ মানুষের খাবারের চাহিদা মিটবে। ভান্সের বক্তব্য, এর ফলে ইরানের খাবারের চাহিদা যেমন পূরণ হবে তেমনেই উপকৃত হবেন মার্কিন কৃষকেরাও। এটিকে ‘ক্লাসিক ট্রাম্প চুক্তি’ বলেও ব্যাখ্যা করেন ভান্স।

তবে এই ‘শর্ত’ মানতে নারাজ তেহরান। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নর আব্দুলনাসের হেম্মাতির দাবি, বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকার কাছ থেকে কৃষিপণ্য কিনতে বাধ্য নয় ইরান। মুক্ত হওয়া সম্পদ যে শুধু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য কিনতেই ব্যয় হবে, এমন কোনও কথা চুক্তিতে নেই বলেই দাবি করেন তিনি। এ অবস্থায় ট্রাম্পের সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

US Iran US Iran Peace Deal Donald Trump
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy