গত এক দশক ধরেই বালচিস্তানে পাক ফৌজের অত্যাচারের, সাজানো সংঘর্ষে খুন, নিহতদের মৃতদের গায়েবের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন তিনি। গ্রেফতার হয়েছেন বহুবার। এ বার সেই বালোচ মানবাধিকারকর্মী এবং বালোচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি)-র নেত্রী মাহরং বালোচ ও তাঁর দুই সহযোগীকে কোয়েটার সন্ত্রাস দমন আদালত যাবজ্জীবন জেলের সাজা দিল।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে পেশায় চিকিৎসক মাহরং এবং তাঁর সহযোগী সিভগাতুল্লা বালোচ ও বালাচ কাদিরকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত মাহরংয়ের এই সাজা নতুন করে বালোচিস্তানে অশান্তির অনুঘটক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বালোচিস্তান প্রদেশে বিচার-বহির্ভূত হেনস্থা, গ্রেফতারি এবং হত্যার অভিযোগে গত বছর মার্চে কোয়েটায় অবস্থান আন্দোলন শুরু করেছিলেন মাহরং এবং তাঁর অনুগামীরা। সে সময় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সেই থেকে জেলবন্দি তিনি।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৭ সালের ১১ অগস্ট ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল দেশীয় রাজ্য কালাত। ১২ অগস্ট কালাতের শাসক মির সুলেমান দাউদ স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বাধীনতার মেয়াদ ছিল মাত্র ৭ মাস। ১৯৪৮-এর ২৭ মার্চ পর্যন্ত। বালুচিস্তানের মানুষের কাছে সেই দিনটা আজও যন্ত্রণার ‘পরাধীনতা দিবস’! ৭ দশক আগে ওই দিনেই পাকিস্তানি সেনা দখল করেছিল বালুচিস্তান। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তৎকালীন শাসককে বাধ্য করেছিল পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হতে। বালুচিস্তানের পরবর্তী ইতিহাস ফের নতুন স্বাধীনতার যুদ্ধের। রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর কয়েক হাজার মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার। পাকিস্তানের বৃহত্তম প্রদেশ বালুচিস্তান প্রাকৃতিক ভাবে সবচেয়ে সম্পদশালী। ধীরে ধীরে তা বেহাত হয়ে যাচ্ছে বালোচ নাগরিকদের। ‘চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর’ (সিপিইসি) তৈরির পরে গত কয়েক বছরে সেই লুট আরও বেড়েছে। পশ্চিম চিনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে শুরু হওয়া ওই রাস্তা কারাকোরাম পেরিয়ে ঢুকেছে পাকিস্তানে। প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শেষ হয়েছে বালুচিস্তান প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে চিন নিয়ন্ত্রিত গ্বদর বন্দরে। ওই রাস্তা ব্যবহার করেই ইসলামাবাদ এবং বেজিংয়ের শাসকেরা বালুচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে বলে ‘বালুচ ন্যাশনালিস্ট আর্মি’ (বিএনএ), ‘বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি’ (বিএলএ)-র মতো স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অভিযোগ।এমনকি, সম্প্রতি গ্বদর উপকূলের মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে মাছ ধরাও চিনাদের আপত্তিতে বন্ধ করা হয়েছে।