ভোট রাজনীতির বাধ্যবাধকতার কারণে সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়াতে হয়েছে। কিন্তু তারই পাশাপাশি, পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের ঘোষণার মাধ্যমে রাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের রূপরেখা রয়েছে সোমবার রাজ্য বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের পেশ করা বাজেট প্রস্তাবে। যা ইতিবাচক এবং সন্তোষজনক বলেই মনে করছে রাজ্যের শিল্প ও বণিকমহলের বড় অংশ। ওই অংশের মতে নতুন সরকারের বাজেট প্রস্তাবে পরিকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণের যে দিশা দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, পূর্বতন সরকারের জমানায় তা কখনওই দেখা যায়নি।
পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক প্রকল্পের পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ বা মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, সরকারি চাকরি এবং সরকার পোষিত প্রতিষ্ঠানে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ-সহ এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ হবে। যার অর্ধেক শুধু শিক্ষাক্ষেত্রেই! নতুন পাঁচ জেলাগঠন ও সরকারি খোলনলচে বদল, নদীভাঙন ও বন্যাপ্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্বপন জানিয়েছেন, রাজ্যে এখন যে সব সামাজিক প্রকল্প চালু রয়েছে, তা কোনও ভাবেই বন্ধ হবে না। তবে সে সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির কাছে পৌঁছোয়, নতুন সরকার সে বিষয়টা নিশ্চিত করবে।
এক দশক আগে সামাজিক প্রকল্পকে ‘রেউড়ি রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেস ও আঞ্চলিক দলের সরকারের জনমুখী প্রকল্পকে তিনি ‘রেউড়ি-সংস্কৃতি’ বলে আক্রমণ করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই তালজ্ঞানহীন মাত্রাছাড়া জনমোহিনী রাজনীতির ফলে রাজ্যের কোষাগারে বোঝা চাপবে তো বটেই, গোটা দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ছত্তীসগঢ়, অসমের মতো বিজেপিশাসিত রাজ্যেও চালু হয়েছিল বিবিধ সামাজিক প্রকল্প। ভোট রাজনীতির যার ‘পাখির চোখ’ ছিল বলে মনে করেন অনেকেই। এ বার বাজেটে অন্নপূর্ণা যোজনা, বেকার ভাতা, সাংবাদিক ভাতা, পড়ুয়াদের অর্থসাহায্য, প্রবীণ ও বিধবাদের ভাতার মতো কর্মসূচি চালু রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে বেড়েছে বরাদ্দও।
যোগাযোগের নয়া দিশা
অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবে, সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মসৃণ এবং দ্রুতগামী করতে একাধিক পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে। নিউটাউন এবং মধ্য কলকাতার সংযোগকে আরও নিবিড় করতে ৭.৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড করিডর তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন স্বপন। এই করিডর তৈরি করতে ৯০০ কোটি টাকা খরচ হবে। হুগলি জেলার ডানকুনি এবং মগরাকে জুড়তে একটি রোড করিডর তৈরি করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর জন্য খরচ হবে ১৮৫০ কোটি টাকা। এর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডানকুনিকে একটি ‘মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব’ হিসাবে তৈরি করতে সক্রিয় পদক্ষেপ করবে সরকার। দুর্গাপুর-আসানসোল এবং শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ির মধ্যে মেট্রো পরিষেবা চালু করা যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
স্বপন তাঁর বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছেন, সড়়ক যোগাযোগকে বাধাহীন করতে রাজ্যের ৭০টি চিহ্নিত জায়গায় রেলের সহায়তায় ওভারব্রিজ বানাবে রাজ্য। তুলে দেওয়া হবে লেভেল ক্রসিং। সে ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে ট্রেন চলাচলের জন্য গাড়ি চলাচল থমকে যাবে না। সড়ক যোগাযোগকে উন্নত করতে সেত়ু নির্মাণের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। পাশাপাশি, অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভাগীরথী়র উপরে, পূর্ব বর্ধমানের কালনা এবং নদিয়ার শান্তিপুরের মধ্যে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া এবং নন্দীগ্রামের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী সেতু তৈরি করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলেও বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। সাগরদ্বীপে যাওয়ার জন্য মুড়িগঙ্গার উপর সেতু নির্মাণের বিষয়টি সরকার বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আপাতত জমি অধিগ্রহণ-সহ প্রাথমিক কিছু কাজের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। ভাগীরথী এবং হুগলি নদী তীরবর্তী জেটিগুলির সংস্কার, জেটি থেকে গ্রামীণ বাজারগুলিতে যেতে রাস্তা নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে।
কলকাতায় যানজট এড়াতে হাওড়়ার শালিমার এবং গার্ডেনরিচের মধ্যবর্তী অঞ্চলে রো-রো টার্মিনাল নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে হাওড়া ব্রিজ এবং বিদ্যাসাগর সেতুর উপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত রো-রো টার্মিনাল হল, বন্দর বা নদীতীরের এমন একটি বিশেষ পরিকাঠামো, যেখানে ক্রেন বা অন্য কোনও ভারী সরঞ্জামের সাহায্য ছাড়াই সরাসরি র্যাম্পের মাধ্যমে চাকাযুক্ত যানবাহন (যেমন— ট্রাক, বাস, তেলবাহী ট্যাঙ্কার) বা ভারী যন্ত্রপাতি জাহাজে তোলা (রোল-অন) এবং নামানো (রোল-অফ) হয়।
পরিকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যুৎক্ষেত্র
রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন তাপবিদ্যুৎ গঠনের পরিকল্পনা করেছে রাজ্য। পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলে সাঁওতালডিহিতে ১৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। বিদ্যুতের জোগান স্থিতিশীল রাখতে ১৫টি নতুন সাবস্টেশন তৈরির কথা বলা হয়েছে। ১২টি শহরে মাটির নীচ দিয়ে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাওয়ার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ২০০ কোটি টাকা। সৌরশক্তির ব্যবহারকে জনপ্রিয় করতে রাজ্যের সরকারি অফিসগুলিতে সোলার প্ল্যান্ট তৈরির কথা বলা হয়েছে। আপাতত এর জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ১০০ কোটি টাকা।
তালিকায় মোট কী কী?
এ বারের বাজেট বক্তৃতায় পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঘোষিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে—
১) তিনটি নতুন বিমানবন্দর— পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদহে। কোচবিহার বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ।
২) কলকাতা বিমানবন্দরের উপর চাপ কমাতে কল্যাণীতে তৈরি হবে ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর।
৩) নিউটাউন এবং মধ্য কলকাতার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী এলিভেটেড করিডর নির্মাণ।
৪) ‘মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব’ হিসাবে গড়ে তোলা হবে ডানকুনিকে।
৫) রাজ্যের ৭০টি জায়গায় রেলের সহায়তায় রেল ওভারব্রিজ বানাবে রাজ্য।
৬) ভাগীরথী়র উপরে, কালনা এবং শান্তিপুরের মধ্যে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ।
৭) হলদিয়া এবং নন্দীগ্রামের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী সেতু তৈরি করতে ১০০ কোটি বরাদ্দ।
৮) কলকাতায় যানজট এড়াতে শালিমার এবং গার্ডেনরিচের মধ্যবর্তী অঞ্চলে টার্মিনাল নির্মাণ।
৯) রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নতুন তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ার পরিকল্পনা।
১০) ডানকুনি এবং মগরাকে জুড়তে রোড করিডর তৈরি করার পরিকল্পনা।
নজরে উত্তরবঙ্গও
কেন্দ্রীয় সরকারের উড়ান প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে তিনটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দু’টিই উত্তরবঙ্গে— মালদহে এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। বিজেপির সরকার কোচবিহার বিমানবন্দরও সম্প্রসারণের কাজ করবে বলে বাজেটে জানিয়েছেন স্বপন। যে মেট্রো পরিষেবা এত দিন কলকাতাতেই সীমিত রয়েছে, তা নিয়েও উত্তরবঙ্গবাসীকে আশার আলো দেখাল সরকার। কলকাতার বাইরেও মেট্রো পরিষেবা চালু করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনার দিকগুলি খতিয়ে দেখতে চায় তারা। যে দু’টি জায়গায় সরকার মেট্রো পরিষেবার বিষয়টি প্রাথমিক বিবেচনায় রেখেছে, তার মধ্যে একটি শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি সম্ভাব্য মেট্রো পরিষেবা। স্বপন জানান, এই প্রকল্পের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে একটি ‘টেকনো-ইকনমিক সার্ভে’ শুরু হয়েছে।
সরকার গড়লে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে যে বিশেষ জোর দেওয়া হবে, তা নির্বাচনী ইস্তাহারেই জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি। উত্তরবঙ্গে ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির কথা বলা ছিল বিজেপির ‘সংকল্পপত্রে’। আইআইটি এবং আইআইএম তৈরির জন্য উদ্যোগের কথাও ভোটের আগে উত্তরবঙ্গবাসীকে বলেছিল বিজেপি। সরকার গড়ে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করল শুভেন্দুর সরকার। উত্তরবঙ্গের জন্য আইআইটি এবং আইআইএম তৈরির কথা ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। কোচবিহারের তুফানগঞ্জে তৈরি হবে মহিলা কলেজ।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
এমন কিছু আর নেই, যা বাজেট থেকে বাদ গিয়েছে। এই বাজেট নিয়ে বিরোধীদেরও কিছু বলার আছে বলে মনে হয় না। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করার পরে এমন মন্তব্যই করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, এটা শুধু তাঁর কথা নয়। তৃণমূলের বিধায়ক অশোক দেবও তাঁকে একই কথা জানিয়েছেন। বর্তমান সরকারের বাজেটের মূল দিশা কী, সোমবার তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। এই বাজেটকে পূর্ণাঙ্গ বলা যায় কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এটা আট মাসের বাজেট, ১২ মাসের নয়! তাঁর আশ্বাস, এই বাজেটে যদি কিছু বাদ পড়েও যায়, তা হলে পরের বাজেটে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বিধানসভার বাজেট প্রস্তাব পেশ করার পরেই তাঁকে এবং রাজ্যের অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মণকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। সেখানে তিনি প্রথমেই জানান, সোমবার পেশ করা বাজেটকে তিনি পূর্ণাঙ্গ বলবেন না। কারণ এই বাজেট অগস্ট থেকে আগামী মার্চ পর্যন্ত। তবে তাঁর বক্তব্য, এই বাজেটে কোনও ফাঁকফোকর নেই। তিনি বলেন, ‘‘এই বাজেটে এমন কোনও অংশ নেই, যেটা বাদ গিয়েছে! বিরোধীদের কিছু বলার আছে বলেও মনে হয় না।’’ তিনি জানান, বিরোধী দলের বিধায়ক অশোকও তাঁকে একই কথা বলেছেন, সঙ্গে একটা আর্জিও জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘বিরোধী দলের এক প্রবীণ বিধায়ক, বহু বারের বিধায়ক, অশোক দেব আমাকে বলছিলেন, (বাজেট নিয়ে) বলার কোনও সুযোগ নেই। আইনজীবীদের জন্য কিছু থাকলে ভাল হত।’’ শুভেন্দু আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন তাঁর দফতরের সঙ্গে আলোচনা করবেন এই নিয়ে। দু’দিন তিনি জবাবি ভাষণ দেবেন। সেখানে সম্ভব হলে কিছু ব্যবস্থা করতেও পারেন।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, তাঁর সরকারের বাজেটে সেবা, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি— পাঁচটি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি, গরিমা ফেরানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ‘সময়ের ডাক’ অর্থাৎ প্রাসঙ্গিকতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সুরক্ষা, নাগরিকদের মর্যাদা, ভয়মুক্ত পরিবেশ, সংস্কৃতির পুনরুত্থান, কর্মসংস্থানকে। তাঁর কথায়, ‘‘উল্লেখযোগ্য ভাবে বাজেটে গুরুত্ব দিয়েছি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে। এই রাজ্যে যাঁরা সেবা দান করেন, আংশিক সময়ের চুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত, সর্বোপরি সরকারি সিদ্ধান্ত নীতি কার্যকর করতে যে সরকারি কর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন— তাঁদের উল্লেখ রয়েছে (বাজেটে)।’’
তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। আইনশৃঙ্খলা সুদৃঢ় করে, চাঁদাবাজি, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট বন্ধ করে, ‘সিঙ্গল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্প, ব্যবসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে রাজ্যে। তাঁর কথায়, ‘‘১০০ কোটি টাকার বেশি যাঁরা বিনিয়োগ করবেন, তাঁদের পঞ্চায়েত বা স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে না। স্থানীয় স্তরে হয়রানির শিকার থেকে মুক্তি পাবেন।’’ আগের সরকার যে ‘ইনসেনটিভ’ ব্যবস্থা তুলে দিয়েছিল, এই সরকার তা ফিরিয়ে এনেছে। ৫০০০ কোটি টাকার প্রভিশন রাখা হয়েছে। ব্যবসা, ভর্তুকি সংক্রান্ত ট্রেনিং নিয়ে যাঁরা নিজের ব্যবসা করতে চান, তাঁদের দায়িত্ব অনেকটাই নিয়েছে রাজ্য, আশ্বাস শুভেন্দুর। তিনি আরও জানিয়েছেন, সড়ক, সেতু, রেলপথ, বিমান, সমুদ্র বন্দর তৈরির করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিও ঘটানো হবে।
কৃষিক্ষেত্রে এই বাজেটে কী কী বরাদ্দ হয়েছে, তা-ও মনে করিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানিয়েছেন, কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ছাড় দেবে সরকার। এ জন্য ৮০০ কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্য সরকারের। আলুচাষি, ধানচাষিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন। শুভেন্দু জানিয়েছেন, অক্টোবর থেকে স্নাতক পাশ করা যুবকেরা মাসে তিন হাজার টাকা পাবেন। যাঁরা স্নাতক পাশ করেননি, তাঁরা ২০০০ টাকা পাবেন। তা নিয়ে গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে। তবে যাদের পরিবারের আয় মাসে এক লক্ষ টাকা বা তার বেশি, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।
অন্য দিকে, তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দিতে চান তাঁরা। কুণালের দাবি, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আত্মনির্ভর’ বাজেট করতে হত, সেখানে এই বাজেট কেন্দ্রীয় সরকার-নির্ভর। তাঁর কথায় ‘‘এখানে খরচের কথা বলা হয়েছে, টাকা কোথা থেকে আসবে, সরকারের আয় কী, তা পুস্তিকায় স্পষ্ট নয়। ব্যয় করছে সরকার, আয় কোথা থেকে! কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর বাজেট। ভাল-মন্দ কোনওটাই বলছি না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বইটির মধ্যে এত বার কেন্দ্রীয় সরকারের উল্লেখ রয়েছে, বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছিল যে রাজ্য বাজেট শুনছি, না কি কেন্দ্রীয় বাজেটের রাজ্য সংস্করণ শুনছি।’’ তবে কুণাল জানিয়েছেন, নতুন সরকারকে তাঁরা সময় দিতে চান। সেই সঙ্গে এ-ও জানান, যে ভাতা মমতার সরকার চালু করেছিল, এ বার তাদের বাজেটেও তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।