Advertisement
E-Paper

জঙ্গিরাষ্ট্রের হাতে আমরা কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকতে দিতে পারি না! ইরানে কেন আক্রমণ মার্কিন সেনার? বিস্তারিত বর্ণনা ট্রাম্পের

গত বছরেই ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে হানা দিয়েছিল আমেরিকা। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। এ বার ফের ইরানের বিরুদ্ধে ‘বড় সামরিক অভিযান’ শুরু করল তারা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:৫৮
(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

ইরানে সামরিক অভিযানে আমেরিকার হাত রয়েছে। এ বার তা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানকে ‘জঙ্গিরাষ্ট্র’ বলেছেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “একটি জঙ্গিরাষ্ট্রের হাতে কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না।”

ইরানে হামলা শুরুর পর পরই আমেরিকা থেকে বক্তৃতা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “কিছু ক্ষণ আগে মার্কিন বাহিনী ইরানে একটি বড় সামরিক অভিযান শুরু করেছে। খুব ভয়ঙ্কর লোকেদের নিয়ে তৈরি একটি দুষ্ট গোষ্ঠীর হাতে ইরানের শাসনভার রয়েছে। ইরানের ওই শাসকগোষ্ঠীর দিক থেকে আসা হুমকি নির্মূল করাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা চাই মার্কিন নাগরিকদের রক্ষা করতে।”

গত বছরেই ইরানে হানা দিয়েছিল আমেরিকা। ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্রে বোমারু বিমান দিয়ে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সেই হামলার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “ওই হামলার পরে আমরা ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। বলে দেওয়া হয়েছিল, ওরা যেন কোনও ভাবেই আর পরমাণু অস্ত্র বানানোর চেষ্টা না করে। আমরা বার বার চাইছিলাম একটি চুক্তি করতে। কিন্তু শেষপর্যন্ত ওরা রাজি হল না। আমরা এটা আর নিতে পারছি না।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরান নিজেদের পরমাণু কার্যকলাপ এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আমেরিকার ইউরোপীয় বন্ধুদের ভয় দেখাচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, শীঘ্রই আমেরিকাকেও হুমকি দিতে পারে তেহরান। সেই কারণেই মার্কিন বাহিনী সেখানে হামলা শুরু করেছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, “এটি জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। আমরা ওদের ক্ষেপণাস্ত্র ধুলোয় মিশিয়ে দেব। আমরা নিশ্চিত করব যে ওদের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলি যেন পশ্চিম এশিয়াকে আর অশান্ত করতে না পারে। ওদের হাতে যেন কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র না থাকে।” ট্রাম্পের দাবি, আমেরিকা নীতিগত ভাবে সব সময়েই নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থেকেছে।

সন্ত্রাসে মদতদাতা দেশগুলির মধ্যে ইরান ‘এক নম্বরে’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, একটি জঙ্গিরাষ্ট্রের হাতে কোনও ভাবেই পরমাণু অস্ত্র থাকতে পারে না। ট্রাম্পের বক্তৃতায় শুধু ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপের প্রসঙ্গ নয়, অতীতের বিভিন্ন ঘটনার কথাও উঠে আসে। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা এবং আমেরিকানদের বন্দি করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। জানান, ওই সময়ে ৪৪৪ দিন ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল মার্কিন নাগরিকদের।

বস্তুত, হামাস, হিজ়বুল্লা-সহ পশ্চিম এশিয়ায় বিভিন্ন দেশে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের কথা তুলে ধরে, ১৯৮৩ সালে লেবাননের রাজধানী বেইরুটে মার্কিন মেরিন বাহিনী ঘাঁটিতে হামলার কথা মনে করান ট্রাম্প। ওই হামলায় ২৪২ জন মার্কিন সেনাকর্মী নিহত হন বলেও জানান তিনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বলেন, “ওদের কার্যকলাপ আমেরিকা, মার্কিন সেনা, আমাদের বিদেশি ঘাঁটি এবং আমাদের বন্ধু দেশগুলিকে হুমকির মুখে ফেলছে। ৪৭ বছর ধরে ইরানি শাসকগোষ্ঠী ‘আমেরিকা ধ্বংস করার’ স্লোগান দিয়ে গিয়েছে। রক্ত ঝরিয়েছে, গণহত্যা করেছে, মার্কিন সেনা এবং সাধারণ নাগরিকদের উপরে হামলা করেছে।” আমেরিকার পণ্যবাহী জাহাজগুলিতেও যে হামলার আশঙ্কা থাকে, তা-ও উল্লেখ করেন তিনি।

এই হামলার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে গাজ়ায় ইজ়রায়েল এবং হামাসের সংঘর্ষের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “ইরানের মদতপুষ্ট হামাস গোষ্ঠী ইজ়রায়েলে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে। হাজারের বেশি মানুষকে তারা হত্যা করেছে। এর মধ্যে ৪৬ জন আমেরিকানও রয়েছেন।” এমনকি ইরানের সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের কথাও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Donald Trump US Iran israel Ayatollah Ali Khamenei Benjamin Netanyahu
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy