লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এ বার ইরানকে পাল্টা চাপে রাখার চেষ্টা শুরু করল আমেরিকা। রবিবার বিকেলে সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা-ইরান আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও মূল পর্বের বৈঠক এখনও শুরু হয়নি। এরই মধ্যে ফের ইরানে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানিয়ে দিলেন, হিজ়বুল্লা অশান্তি পাকানো বন্ধ না-করলে মার্কিন বাহিনী ফের হামলা চালাবে ইরানে। এ বারের হামলা আগের চেয়েও বেশি জোরালো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, লেবাননে ইরানের মদতপুষ্ট গোষ্ঠীগুলি অশান্তি পাকাচ্ছে। এটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে ইরানকে। অন্যথায় ইরানের উপর ফের জোরালো হামলা চালাবে আমেরিকা। সমাজমাধ্যম পোস্টে সরাসরি হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। তবে লেবাননের দক্ষিণ ভাগে দীর্ঘ দিন ধরেই সক্রিয় ইরানের ‘বন্ধু’ সশস্ত্র হিজ়বুল্লা গোষ্ঠী। ইজ়রায়েলের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ চলছে এবং সেই সংঘর্ষ আমেরিকা-ইরান আলোচনার পথে অন্যতম অন্তরায় হয়ে উঠেছে।
আমেরিকা-ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মউয়ে বলা হয়েছে, লেবানন-সহ সর্বত্র সংঘর্ষ থামবে। কিন্তু লেবাননে উত্তেজনা এখনও থামেনি। এ অবস্থায় রবিবাব সুইৎজ়ারল্যান্ড বৈঠক শুরুর আগেই ইরান জানিয়ে দিয়েছে, বোঝাপড়া চূড়ান্ত করে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা শুরু করার আগে লেবাননে শান্তি ফেরাতে হবে। তাদের বক্তব্য, লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ না-হলে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সুইৎজ়ারল্যান্ড বৈঠক চলাকালীনই ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখলেন ট্রাম্প। অনুমান করা হচ্ছে, অশান্তি পাকানোর ‘দায়’ হিজ়বুল্লার উপর চাপিয়ে ইরানকে পাল্টা চাপে রাখতে চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন:
ঘটনাচক্রে, ট্রাম্প যখন এই হুঁশিয়ারি দেন, তার অব্যবহতি আগেই সুইৎজ়ারল্যান্ডের বৈঠকে ইরানের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের এক ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করার বার্তা দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার আহ্বান দিয়েছেন।” উভয় পক্ষ একসঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করবে বলেও জানান ভান্স। তাঁর কথায়, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে সম্পর্কে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ করতে আগ্রহী।
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আগে সুইৎজ়ারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও জানান, সার্বিক ভাবে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর আমেরিকা। তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসে লেবাননের সংঘাত থামাতে অন্য যে কোনও সরকারের চেয়ে বেশি কাজ করেছে আমেরিকা। শান্তি ফেরানো কখনওই সহজ কাজ নয়। শান্তির জন্য সবসময়ই কিছুটা পরিশ্রম করতে হয়। এর জন্য সবসময়ই কিছুটা ছাড় দেওয়া-নেওয়া প্রয়োজন হয়।”