ইরানের তরফে আমেরিকার সঙ্গে মধ্যস্থতা করা দুই আধিকারিককে হত্যা করতে পারে ইজ়রায়েল। একটা সময় পর্যন্ত এমনই আশঙ্কা করেছিল আমেরিকা। বিষয়টি সম্পর্কে ইরানকে সতর্ক করতে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিকে অনুরোধ করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইজ়রায়েলের সম্ভাব্য নিশানায় থাকা ওই দুই ব্যক্তির এক জন হলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, অপর জন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। নিউ ইয়র্ক টাইম্স বেশ কয়েক জন প্রাক্তন এবং বর্তমান মার্কিন আধিকারিককে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, গত এপ্রিলে ওই দু’জনের উপর ইজ়রায়েল হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিল আমেরিকা। ওই সময় থেকেই অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনায় বসেছিল আমেরিকা এবং ইরান। ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল যে, ইরানের ওই দুই শীর্ষ আধিকারিকের উপর ইজ়রায়েল হামলা চালালে আলোচনাপ্রক্রিয়া ভেস্তে যাবে।
আরও পড়ুন:
ওই প্রতিবেদনে মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর তেহরানের অনেক শীর্ষ নেতাই নিশানায় ছিলেন। কিন্তু এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার পর মত বদলায় হোয়াইট হাউস। পেন্টাগনের আশঙ্কা ছিল যে, পুরনো কৌশল মেনে ইজ়রায়েল যদি আরাঘচি এবং ঘালিবাফকে হত্যা করে, তা হলে আলোচনা পুরো ভেস্তে যাবে।
ইরানের চরমপন্থী গোষ্ঠীভুক্ত রাজনীতিক বলে পরিচিত নন আলি লারিজানিও ইজ়রায়েলের বিমানহামলায় নিহত হয়েছিলেন। একটা সময় পর্যন্ত খামেনেইদের চরমপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে ‘উদার এবং বাস্তববাদী’ লারিজানিকেই ইরানের ‘বৈধ’ প্রতিনিধি হিসাবে ভাবছিল আমেরিকা। কিন্তু ইজ়রায়েলি আক্রমণে সেই সম্ভাবনা ভেস্তে যায়। তার পরেই সতর্ক হয়ে যায় আমেরিকা। ঘটনাচক্রে, এখন আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতা হয়েছে। তার পর ৬০ দিন আলোচনা করে দুই পক্ষ চূড়ান্ত শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করবে। নিউ ইয়র্ক টাইম্স-এর প্রতিবেদন নিয়ে অবশ্য কোনও পক্ষই এখনও প্রকাশ্যে মুখ খোলেনি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘আমাদের হাতে ক্ষেপণাস্ত্র না থাকলে ইরানের অবস্থাও হত গাজ়ার মতো’! দাবি পেজ়শকিয়ানের, নিশানায় আমেরিকা
-
‘ভুল, খুব ভুল করছে’! ইরানকে ফের কী নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প? শান্তিবৈঠক বন্ধ করার হুমকিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের
-
হিজ়বুল্লা-নিধনে ইজ়রায়েল হামলা চালিয়ে গেলেও ‘স্পিকটিনট’! ৩০০০০ কোটি ডলারে ইরানের মুখ বন্ধ করল আমেরিকা?
-
‘পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই’! যুদ্ধবিরতির শর্ত প্রকাশে দেরি নিয়ে প্রশ্নে মজাচ্ছলেই খোঁচা ভান্সের
-
হিজ়বুল্লার সঙ্গে ‘যুদ্ধবিরতি’ জানিয়েও ফের ইজ়রায়েলি হানা লেবাননে! শান্তিচুক্তিতে নারাজ নেতানিয়াহুর কৌশল কী?