ইরানে কি এ বার আরও ঘাতক অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে আমেরিকা? বিভিন্ন সূত্রে অন্তত তেমনই দাবি করা হচ্ছে। সামরিক সংঘাতের মাঝেই পেন্টাগনের প্রধান তথা মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ইরানের আকাশসীমা নিজেদের দখলে নেবে আমেরিকা। আর তার পর থেকে জল্পনা জোরালো হতে শুরু করেছে, তা হলে কি এ বার ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রিসিশন গ্র্যাভিটি বোমা’ ব্যবহার করতে চলেছে? তার সঙ্গেই পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবারই ক্যালিফর্নিয়ায় ‘মিনিটম্যান ৩’ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে মার্কিন সেনা। যেটিকে ‘ডুমস্ডে’ ক্ষেপণাস্ত্রও বলা হচ্ছে। হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা ‘লিটল বয়’ ফেলা হয়েছিল, তার থেকে ২০ গুণ শক্তিশালী পরমাণু বোমা বহন করতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্র। ‘ডুমস্ডে’ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর পরই আমেরিকা ইঙ্গিত দিয়েছে প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ‘গ্র্যাভিটি বোমা’র মতো অত্যন্ত ঘাতক অস্ত্রও প্রয়োগ করতে ইতস্তত করবে না।
পেন্টাগন প্রধান হেগসেথ জোর গলায় দাবি করেছেন, আমেরিকা এই যুদ্ধে জিতছে। প্রতিপক্ষের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। তার পরই হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের আকাশসীমা কব্জা করবে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। তাঁর মতে, এই সমরিক অভিযান এখন প্রথম পর্বেই রয়েছে। আগামী দিনে হামলা আরও জোরালো হবে। আর এই অভিযানকে সফল করতে ‘গ্র্যাভিটি বোমা’র ভান্ডারও ব্যবহার করতে প্রস্তুত আমেরিকা। গত বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব দাবি করেছেন, সংঘাত শুরুর চার দিনের মধ্যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যেই ২২৬ কেজি, ৪৫০ এবং ৯০০ কেজির ‘গ্র্যাভিটি বোমা’ মোতায়েন করা শুরু করেছে।
কী এই ‘গ্র্যাভিটি বোমা’? কতটা ঘাতক?
এই বোমাকে ‘ফ্রি ফল’ বোমাও বলা হয়। এই বোমাকে যুদ্ধবিমান থেকে ফেলা হয়। টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো এতে কোনও ইঞ্জিন বা প্রপালশন ব্যবস্থা থাকে না। বিমান থেকে বোমা ফেলার পর সেটি মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়েই নিশানায় আঘাত করে। এর জন্য এটিকে ‘ট্যাকটিক্যাল আনগাইডেড’ বোমাও বলা হয়। এই বোমা ফেলার ক্ষেত্রে বিমানের গতি একটা বড় ভূমিকা নেয়। আগে এটি ‘আনগাইডেড’ বোমা ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এটিকে আরও ঘাতক করে তোলা হয়েছে। আধুনিক কিছু গ্র্যাভিটি বোমায় পরমাণু বা থার্মোনিউক্লিয়ার ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়। তবে সব গ্র্যাভিটি বোমাই পরমাণু অস্ত্র নয়। সাধারণত গ্র্যাভিটি বোমা একটি ছোট এলাকা থেকে শুরু করে পুরো শহরে ধ্বংসলীলা চালানোর ক্ষমতা রাখে। মূলত শত্রুপক্ষের মজবুত বাঙ্কার এবং ভূগর্ভস্থ সামরিক ঠিকানাকে ধ্বংস করতে এই বোমা ব্যবহার করা হয়।
এ ছাড়াও এই বোমায় ‘ডায়াল-এ-ইল্ড’ প্রযুক্তি রয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ঠিক করা হয়, বিস্ফোরণের তীব্রতা বেশি না কম হওয়া উচিত। সাধারণত আধুনিক কিছু গ্র্যাভিটি বোমায় থার্মোনিউক্লিয়ার প্রযুক্তি কাজ করে। অর্থাৎ বিস্ফোরণের জন্য ফিশন এবং ফিউশন দু’টি প্রক্রিয়াই সক্রিয় থাকে।