বুধবার এক কোপে ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ওরাকল। তালিকায় রয়েছেন ভারতেরও ১২ হাজার তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। ইতিমধ্যেই এই গণছাঁটাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্ব জুড়ে। ছাঁটাইয়ের কারণ হিসাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স বা এআই) দায়ী করেছেন সংস্থার কর্মীরা। দাবি উঠেছে, কৃত্রিম মেধা সংক্রান্ত পরিকাঠামোয় ব্যয় বাড়ানোর জন্য সফ্টওয়্যার সংস্থাটি এই চরম পদক্ষেপ করেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহ ধরেই কাজ হারানো নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল ওরাকলে। এর পর বুধবার ভোরে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাছে সংস্থার তরফে একটি ইমেল আসে। সেখানে বলা হয়, তাঁদের চাকরি গিয়েছে এবং বুধবারই শেষ কর্মদিবস। তার পরেই হইচই পড়ে তথ্যপ্রযুক্তি মহলে। এক ধাক্কায় চাকরি হারান ৩০ হাজার কর্মী। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে ভারতে। কাজ হারানো কর্মীদের প্রায় অর্ধেক এ দেশের। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট কর্মীসংখ্যার প্রায় ১৮ শতাংশ ছেঁটে ফেলেছেন ওরাকল কর্তৃপক্ষ।
তবে জানা গিয়েছে, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওরাকল। সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস ইনসাইডার’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাঁটাই হওয়া মার্কিন কর্মীরা চার সপ্তাহের মূল বেতন পাবেন। পাশাপাশি প্রতি অতিরিক্ত বছরের চাকরির জন্য এক সপ্তাহের ক্ষতিপূরণ পাবেন তাঁরা। তবে ২৬ সপ্তাহের বেশি ক্ষতিপূরণ কাউকেই দেওয়া হবে না। যোগ্যতা অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি এবং স্বাস্থ্যবিমার জন্য কিছু টাকাও দেওয়া হবে মার্কিন কর্মীদের।
অন্য দিকে ওরাকলের ছাঁটাই করা ভারতীয় কর্মীরা রেডিটে তাঁদের সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ সম্পর্কে পোস্ট করেছেন। বেঙ্গালুরুর এক চাকরিচ্যুত কর্মীর দাবি, সংস্থা অব্যবহৃত ছুটির টাকা দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ দিনের মূল বেতন ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিচ্ছে তাঁদের। পাশাপাশি ২ মাসের এক্স-গ্রাসিয়া এবং সংস্থায় চাকরির প্রতি বছরের জন্য অতিরিক্ত ১৫ দিনের টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ভারতীয় কর্মীরা ১ মাসের ‘গার্ডেনিং লিভ’-এর বেতন এবং বিমার জন্য ২০,০০০ টাকা পাবেন বলেও জানা গিয়েছে। তবে এই দাবি করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। ওরাকল আনুষ্ঠানিক ভাবে এই সম্পর্কে কোনও বিবৃতি দেয়নি।
আরও পড়ুন:
বিশষজ্ঞদের মতে, কর্মী ছাঁটাইয়ের পর ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ওরাকল অন্যান্য প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে অনুসরণ করেছে। যদিও ওরাকলের তুলনায় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ব্লক বা মেটা আরও বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের। জ্যাক ডরসির সংস্থা ব্লক ২০২৬ সালে তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মীকে ছাঁটাই করে। ক্ষতিপূরণ হিসাবে ২০ সপ্তাহের বেতনের সঙ্গে চাকরির প্রতি বছরের জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহের বেতন অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের পাঁচ হাজার ডলারের একটি ভাতা, তাদের কাজের মেশিন (ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ) এবং ছয় মাস পর্যন্ত তাঁদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত খরচ বহন করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, ২০২৫ সালে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর মার্ক জ়ুকেরবার্গের সংস্থা মেটাও ১৬ সপ্তাহের মূল বেতন এবং চাকরির প্রতি বছরের জন্য অতিরিক্ত ২ সপ্তাহের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। এ ছাড়া ছ’মাসের স্বাস্থ্য বিমার কথাও ঘোষণা করেছিল তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ার ‘জায়ান্ট’ সংস্থাটি।