পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ যতই তীব্র হচ্ছে, ততই অস্থির হচ্ছে ভারতের শেয়ার বাজার। বাড়ছে এ দেশ থেকে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতা। এতটাই যে, এপ্রিলের প্রথম দু’টি লেনদেনে এই সব সংস্থা বিক্রি করেছে ১৯,৮৩৭ কোটি টাকার শেয়ার। মার্চে সব মিলিয়ে তারা বেচেছে ১.১৭ লক্ষ কোটির। যা নতুন নজির। বাজার মহলের বক্তব্য, যুদ্ধ ঘিরে অনিশ্চয়তা তো রয়েইছে। সেই সঙ্গে দেশে টাকার দরে পতন, অশোধিত তেলের চড়া দাম, তার প্রভাব ভারতের অর্থনীতির উপরে পড়ার আশঙ্কায় ঝুঁকি নিতে নারাজ বিদেশি লগ্নিকারীরা। তা ছাড়া আমেরিকার সরকারি বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড) বাড়ছে। ভারতে বহু সংস্থার শেয়ারের দাম এখনও অন্যান্য দেশের সংস্থাগুলির থেকে বেশি। যে কারণে অল্প মুনাফা দেখলেই শেয়ার বিক্রি করছে তারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ৯৪,০১৭ কোটি টাকার শেয়ার বেচেছিল বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি। যা ছিল এর আগে রেকর্ড। ফেব্রুয়ারিতে তারা ঢেলেছিল ২২,৬১৫ কোটি। এ বছরে জানুয়ারি-মার্চেই পুঁজি প্রত্যাহারের অঙ্ক পৌঁছেছে প্রায় ১.৩০ লক্ষ কোটিতে। গত বছরের গোটা সময় মিলিয়ে ছিল ১.৬৬ লক্ষ কোটি। ফলে যুদ্ধ চলতে থাকলে বিদেশি পুঁজি বেরোনোর অঙ্ক আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
জিয়োজিৎ ইনভেস্টমেন্টসের গবেষণা বিভাগের প্রধান ভি কে বিজয়কুমার বলেন, ‘‘টানা যুদ্ধ, অশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যাওয়া এবং ডলারের সাপেক্ষে টাকার দর ধারাবাহিক ভাবে কমে যাওয়া— এই বিষয়গুলিই চিন্তায় রেখেছে বিদেশি লগ্নিকারীদের।’’ উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত ডলারে টাকা নেমেছে ৪%।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)