একই সঙ্গে কর্মী ও শিল্প সংস্থার জন্য উপহার ঘোষণা করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইএসআইয়ে দেয় অর্থ কমল দু’পক্ষেরই। ইএসআই প্রকল্পে স্বাস্থ্য বিমার জন্য এখন কর্মচারী রাজ্য বিমা নিগমে কর্মীদের মাসিক বেতনের ৬.৫% জমা করতে হয়। তার মধ্যে ১.৭৫% দিতে হয় গ্রাহককে। শিল্প সংস্থাকে দিতে হয় ৪.৭৫%। তার বদলে জুলাই থেকে গ্রাহককে দিতে হবে বেতনের ০.৭৫%। শিল্প সংস্থাকে ৩.২৫% দিতে হবে। 

এতে লাভ দু’পক্ষেরই। প্রথমত, ইএসআই পরিষেবার জন্য কর্মীদের বেতন থেকে কম টাকা কাটা যাবে। দ্বিতীয়ত, খরচ কমবে শিল্প সংস্থারও। ওয়াকিবহাল মহলের প্রাথমিক অনুমান, এতে বছরে অন্তত ৫,০০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে শিল্প মহলের। যা এখনকার খরচের প্রায় ৪০%। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে ৩.৬ কোটি শ্রমিক-কর্মচারী লাভবান হবেন। ১২.৮৫ লক্ষ সংস্থা উপকৃত হবে। ইএসআইয়ে বেতনের কম অর্থ কাটা গেলে প্রকল্পে আরও বেশি কর্মী নাম লেখাবেন। বেশি মানুষ আসবেন সংগঠিত ক্ষেত্রে ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায়। মালিকদের খরচ কমলে ব্যবসাগুলিও লাভজনক হবে। তারা আরও কর্মী নিয়োগ করতে পারবে। 

শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের প্রশ্ন অবশ্য অন্য। তা হল, দু’দিন আগেই মোদী সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে শ্রম আইনের আমূল সংস্কার হবে। সে কারণেই কি আগেভাগে শ্রমিকদের খুশি করার চেষ্টা? 

ইএসআই আইনে মাসে ২১,০০০ টাকা পর্যন্ত বেতনের কর্মচারীদের স্বাস্থ্য পরিষেবা, মাতৃত্বকালীন ও পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে বিমার বন্দোবস্ত থাকে। যে সব কারখানা বা পরিষেবা সংস্থায় ১০ জন বা তার বেশি কর্মী কাজ করেন, সেখানেই ইএসআই আইন প্রযোজ্য। সরকারি কর্তাদের হিসেব অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে ২২,২৭৯ কোটি টাকা জমা পড়েছে।