নোট বাতিলের ধাক্কায় এমনিতেই দুর্ভোগের অন্ত নেই আমজনতার। তার উপর নতুন আঘাত হানল চেন্নাইয়ে সোমবার বিকেলে আছড়ে পড়া ঘূর্ণিঝড় ‘ভারদা’। যার প্রকোপে এ দিন বিকেলে ব্যাহত হয় বিএসএনএল, ভোডাফোনের মতো টেলিকম সংস্থাগুলির ইন্টারনেট পরিষেবা। ফলে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে থমকে যায় সাধারণ ও মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরিষেবাও। এমনকী নেট না-থাকার দরুন সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায় ওলা-উবেরের মতো অ্যাপ নির্ভর ট্যাক্সি পরিষেবা। অকেজো হয়ে পড়ে হোয়াটসঅ্যাপের মতো অ্যাপও।
বাজারে নগদের আকাল থাকায় এই মুহূর্তে ডিজিটাল লেনদেন বহু মানুষের জীবনেই আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই কারণে ব্যাঙ্কেও গ্রাহকদের ভিড় অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশিই দেখা যাচ্ছে। ফলে নেট-বিকলের ঘটনায় এ দিন বেশ ভাল মতোই ভুগেছেন রাজ্যবাসী।
ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার (বেফি) সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বিশ্বাসের দাবি, ‘লিঙ্ক’ না- থাকায় এ দিন পশ্চিমবঙ্গ-সহ গোটা পূর্বাঞ্চলে সমস্ত ব্যাঙ্কের চেক ‘ক্লিয়ারিং’ বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘‘আজ যাঁরা চেক জমা দিয়েছেন, লিঙ্ক না-থাকায় সেগুলির ক্লিয়ারিং-এর কাজ আজ হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়াটাই এক দিন পিছিয়ে যাবে। নেটের সমস্যা বহাল থাকলে তা আরও পিছোবে।’’
নোটের জোগানের অভাবে অনেকেই চেকে লেনদেন করছেন। এই পরিস্থিতিতে চেক-এর টাকা পেতে দেরি হলে সকলেরই দুর্ভোগ বহু গুণ বাড়বে বলে দাবি তাঁদের।
ভারদা রাজ্যে শীত আসার পথে কাঁটা হবে না, সেই ইঙ্গিত ছিলই। কিন্তু তা যে রাজ্যের ব্যাঙ্কিং পরিষেবায় কাঁটা হয়ে উঠবে, সেই আশঙ্কা করেননি কেউই। টেলিকম শিল্প সূত্রের খবর, ভারদা-র প্রকোপে সেখানকার ‘ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে’-র পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, বিশ্বের সঙ্গে নেটের যোগসূত্রের জন্য চেন্নাই, মুম্বই ও আগরতলায় আন্তর্জাতিক ‘গেটওয়ে’ বা ইন্টারনেটের দরজা রয়েছে। স্যাটেলাইট বা অপটিকাল-ফাইবার কেব্লের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করে টেলিকম সংস্থাগুলি। কার ক’টি গেটওয়ে লাগবে তা নির্ভর করে তথ্য পরিবহণের প্রয়োজনীয়তার উপর। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্বাঞ্চলের পরিষেবার জন্য চেন্নাইয়ে বিএসএনএলের ১০টি গেটওয়ে আছে।
বিএসএনএল সূত্রে খবর, ভারদার প্রকোপের পরে চেন্নাইয়ে তাদের মাত্র দু’টি গেটওয়ে কাজ করছিল। ফলে ব্যাহত হয় তাদের নেট পরিষেবা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মুম্বই গেটওয়ের বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের চেষ্টা করে সংস্থাটি। সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করলেও, গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল রাত পর্যন্ত নেট পরিষেবা স্বাভাবিক হয়নি।
একই দুরবস্থার অভিযোগ ভোডাফোন গ্রাহকদেরও। নেটের সমস্যার কথা মানলেও সংস্থার অবশ্য দাবি, ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে সব মিলিয়ে ওই দুই সংস্থার গ্রাহকেরা দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের মোবাইল ফোনে নেট পরিষেবা পাননি। ফলে প্রয়োজন থাকলেও সুযোগ নিতে পারেননি মোবাইল-ব্যাঙ্কিং পরিষেবার।