নাগাড়ে কমছে গাড়ি বিক্রি। এ বার চাহিদার অভাব স্পষ্ট আবাসনেও। গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশের প্রথম সারির আট শহরে ফ্ল্যাট-বাড়ির বিক্রি বেড়েছে আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৪%। যার মধ্যে আবার বেশির ভাগই কম দামি। ছবিটা আরও ফিকে কলকাতায়। বিক্রি বাড়ার বদলে এখানে কমে গিয়েছে অনেকটা। পড়ে আছে প্রায় ৩৪ হাজারের বেশি ফ্ল্যাট। ধাক্কা খেয়েছে নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও। আর তাতেই প্রমাদ গুনছে নির্মাণ শিল্প। দেওয়ালে প্রায় পিঠ ঠেকে যাওয়া বিক্রেতাদের ক্রেতা টানতে ভরসা এখন কম দামি বাড়ির জন্য বাজেটে ঘোষিত একগুচ্ছ সুবিধা।

মুম্বই, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই, কলকাতা-সহ আট শহরে সমীক্ষা করেছে বিশেষজ্ঞ সংস্থা নাইট ফ্র্যাঙ্ক। তাদের তথ্য বলছে গত ছ’মাসে শহরগুলিতে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১.৩০ লক্ষ ফ্ল্যাট। গত বছর যা ছিল ১.২৪ লক্ষের একটু বেশি। সংস্থার অন্যতম কর্তা সৌগত সরকার জানান, এই বৃদ্ধিও হয়েছে আদতে কম দামি আবাসনের দৌলতে। নতুন প্রকল্পেরও সিংহভাগই সেগুলি।

কলকাতায় গত বছর প্রথম ছ’মাসে যেখানে বিক্রি হয়েছিল ৬,৫৯১টি ফ্ল্যাট, সেখানে এ বার তা ৪,৫৮৮টি। নতুন প্রকল্প ঘোষণা ৬,৩৯৩ থেকে নেমেছে ৬২৭টিতে। নির্মাণ সংস্থাদের সংগঠন ক্রেডাইয়ের একাংশ বলছে, এ রাজ্যে আবাসন আইন চালু নিয়ে দীর্ঘ টালাবাহানাই মূলত এর জন্য দায়ী। বিভিন্ন সমীক্ষা তুলে ধরেছে চাকরি কম তৈরি হওয়ার কারণকেও। ক্রেডাই বেঙ্গলের নন্দু বেলানির দাবি, পড়ে থাকা ফ্ল্যাট বেচতেই লাগবে প্রায় তিন বছর। ফলে নতুন প্রকল্পে টাকা আটকে রাখা অর্থহীন। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় নির্মাণ সংস্থার কর্তা রাজীব ঘোষ প্রাধান্য দিচ্ছেন কম দামি ফ্ল্যাটকেই। বলছেন, ‘‘এ শহর বরাবরই মধ্যবিত্ত ক্রেতার বাজার। চাকুরিজীবী বেশি হওয়ায় লোকে কম দামি ফ্ল্যাট চায়।’’

তাই সকলেরই ভরসা এখন বাজেটে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবগুলি। যেখানে কম দামি ফ্ল্যাটের ক্রেতাদের জন্য তিনি গৃহঋণের সুদে আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়িয়েছেন। ফ্ল্যাটগুলির মাপ বাড়িয়ে আরও বেশি ক্রেতা-বিক্রেতাকে এনেছেন এই বাজারের আওতায়। ক্রেডাইয়ের জাতীয় স্তরের কর্তা হর্ষবর্ধন পাটোডিয়ারও আশ্বাস, বাজেটের সুবিধা নিয়ে এগুলি বাজার বাড়াবে। তাঁর দাবি, পুঁজি দ্রুত ফেরত পেতে এ ধরনের বাড়িই ভরসা তাঁদের। আবাসন শিল্পের মতে, দামি বিলাসবহুল বাড়িতে লভ্যাংশ বেশি হলেও, তা চট করে বিক্রি হয় না।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।