ডেক্সটপ হোক বা ল্যাপটপ, ফের বাড়তে চলেছে কম্পিউটারের দাম! তাও আবার ১০০, ২০০ বা ৫০০ টাকা নয়। এ বার এক ধাক্কায় ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত দর বৃদ্ধির রয়েছে আশঙ্কা। সূত্রের খবর, প্রসেসার এবং গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট বা জিপিইউয়ের (পড়ুন গ্রাফিক্স কার্ড) মূল্যবৃদ্ধির জেরে এই সিদ্ধান্ত নিতে একরকম বাধ্য হচ্ছে অধিকাংশ নির্মাণকারী সংস্থা। যদিও দাম বাড়া ইস্যুতে সরকারি ভাবে কোনও ঘোষণা করেনি তারা।
কম্পিউটার তৈরির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল ডিডিআর র্যাম (ডবল ডেট রেট র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি)। ডেক্সটপ-ল্যাপটপের ডিলারদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে ওই সমস্ত হার্ডঅয়্যার। গোদের উপর বিষফোড়ার মতো এন্ট্রি-লেভেল ইন্টেল প্রসেসারে দেখা গিয়েছে ঘাটতি। এই জোড়া ফলাই যে কম্পিউটারের মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরে দাম বৃদ্ধি হলে কমতে পারে ডেক্সটপ-ল্যাপটপের চাহিদা। বাজার নজরদার সংস্থা আইডিসি এবং কাউন্টারপয়েন্ট জানিয়েছে, সে ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিন সরঞ্জামটির বিক্রির সূচক আট শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। গত বছর (পড়ুন ২০২৫ সাল) অবশ্য রেকর্ড পরিমাণ কম্পিউটার বিক্রি হয়েছে এ দেশের খুচরো বাজারে।
আইডিসি এবং কাউন্টারপয়েন্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেক্সটপ, নোটবুক এবং ওয়ার্কস্টেশন মিলিয়ে মোট বিক্রি হওয়া কম্পিউটার ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৫৯ লক্ষ। ২০২৪ সালের তুলনায় যা ১০.২ শতাংশ বেশি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, কোভিডের সময় ২০২০-’২১ এবং ২০২১-’২২ আর্থিক বছরে ১ কোটি ৫০ লক্ষ ইউনিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করে কম্পিউটার।
চলতি আর্থিক বছরের (২০২৫-’২৬) তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) মোট ৪১ লক্ষ ডেক্সটপ-ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই দুই বাজার নজরদার সংস্থা। বছর থেকে বছরের হিসাবে এর সূচক ১৮.৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ দেশের খুচরো বাজারে সর্বাধিক কম্পিউটার বিক্রি করেছে এইচপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লেনোভো। সংশ্লিষ্ট তালিকায় পরবর্তী তিনটি ধাপে আছে ডেল, এসার এবং আসুসের নাম।
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন আইডিসি ইন্ডিয়ার সিনিয়র মার্কেটিং অ্যানালিস্ট ভরত শেনয়। তাঁর কথায়, ‘‘র্যামের দাম ইতিমধ্যেই ২.৫-৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে বাজারে ল্যাপটপ এবং ডেক্সটপ প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মার্চ মাসের শেষে এই সূচকের আর ৮-১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এপ্রিলে শুরু হওয়া নতুন আর্থিক বছরে যা অব্যাহত থাকবে। সে ক্ষেত্রে আরও ১০ শতাংশ বাড়বে দাম।’’