গত বছরের এপ্রিলে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের উপরে চড়া হারে শুল্ক চাপিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে তা বাতিল করেছে সে দেশেরই সুপ্রিম কোর্ট। এ বার সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শুল্ক বাবদ নেওয়া অর্থ ফেরতের কাজ শুরু করল ট্রাম্প প্রশাসন। যা পাবেন মূলত সে দেশের আমদানিকারীরাই। বাণিজ্য উপদেষ্টা জিটিআরআই-এর মতে, এটাই সুযোগ। ভারতীয় রফতানিকারী সংস্থাগুলির উচিত আমেরিকায় তাদের পণ্যের ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা। যাতে শুল্ক খাতে ফেরত পাওয়া অর্থের একাংশ রফতানিকারীদের দেয় তারা।
গত বছর ২ এপ্রিল প্রথমে ১০% হারে শুল্ক পাল্টা শুল্ক চেপেছিল। তা বাড়তে বাড়তে ভারতের জন্য ৭ অগস্ট পৌঁছে যায় ২৫ শতাংশে। আর রাশিয়ার তেল কেনায় গত বছর ২৮ অগস্ট থেকে চাপে আরও ২৫% শুল্ক (মোট ৫০%)। এই হার ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বহাল ছিল। ভারত থেকে আমেরিকায় যাওয়া মূলত বস্ত্র-পোশাকের মতো পণ্য এই চড়া শুল্কের মুখে পড়ে। জিটিআরআই-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, তারাই সবচেয়ে বেশি শুল্ক ফের পাওয়ার যোগ্য। যার অঙ্ক হতে পারে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। তার পরে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (৪০০ কোটি ডলার), রাসায়নিক প্রায় ২০০ কোটি।
শুল্কের অর্থ ফেরত পেতে আমেরিকার আমদানিকারীদের নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। ভর্তি করতে হবে ফর্ম, জানাতে হবে আমদানির তথ্য, তার দাম ইত্যাদি। শ্রীবাস্তবের মতে, ভারতীয় রফতানিকারীদের সামনে সরাসরি এই অর্থ ফেরত পাওয়ার কোনও উপায় নেই। খোলা নেই আইনি পথও। ফলে অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নির্ভর করবে বাণিজ্যিক আলোচনার উপরে। তার জন্য রফতানিকারী সংস্থাগুলিকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষত যেখানে দামের মধ্যে শুল্ক ধরা হয়েছিল, সেগুলির জন্য তদ্বির করা জরুরি।
জিটিআরআই-এর সঙ্গে একমত নিপা এক্সপোর্টসের কর্তা রাকেশ শাহও। তাঁর বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রে আমেরিকার আমদানিকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে দাম ভাগাভাগি করে শুল্ক সমস্যা মেটানো হয়েছিল। অর্থাৎ, কিছুটা শুল্ক আমদানিকারীরা বহন করেছেন, কিছুটা রফতানিকারীরা। এখন আমেরিকার সংস্থাগুলি টাকা ফেরত পেলেও, ভারতীয় রফতানি ক্ষেত্র তা পাবে না। ফলে তাদের বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হবে। সেই সমস্যা মেটানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপের কথা জানাচ্ছেন তিনিও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)