বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমেরিকা শুল্ক যুদ্ধে জড়ানোয় শঙ্কিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল। এই অবস্থায় ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং পাল্টা শুল্ক কমানোর ব্যাপারে কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তি করল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরল আন্তর্জাতিক মহলে। শুক্রবার কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তির পরে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত করেছি। এর ফলে ওই দুই দেশে আমাদের পণ্যও বিনা শুল্কে অথবা খুব কম শুল্কে বিক্রি করতে পারব।’’ 

একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, আমদানি করা গাড়িতে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত আপাতত ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্দেশে অবশ্য ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। 

চিনের সঙ্গে আমেরিকার শুল্ক যুদ্ধের পারদ সম্প্রতি এক ধাপ চড়েছে। কানাডা, মেক্সিকো ও ইইউ-র সঙ্গেও ওয়াশিংটনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তেমন মসৃণ যাচ্ছে না। গত বছরই ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপরে যথাক্রমে ২৫% ও ১০% আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। আবার আমেরিকা থেকে যাওয়া মোটর সাইকেল, ফলের রস, হুইস্কির উঁচু হারে শুল্ক চাপায় ইইউ। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একের পর এক দেওয়াল উঠতে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে এই অবস্থায় এক ধাপ হলেও এগোল উত্তর আমেরিকার তিন দেশ। এতে তাদের মধ্যে নতুন উত্তর আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির কাজ এগোতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই তিন দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের অঙ্ক প্রায় ১.৪ লক্ষ কোটি ডলার। জড়িত প্রায় ১.২ কোটি আমেরিকাবাসীর রোজগার। ফলে এই চুক্তি আমেরিকার পক্ষেও জরুরি ছিল। 

আমদানি করা গাড়ির উপরেও উঁচু হারে শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত ছ’মাস পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এর ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে ইউরোপ ও জাপানের। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজারকে ১৮০ দিন পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দিতে বলেছেন ট্রাম্প। অনেকে মনে করছেন, ইইউ ও জাপানকে আলোচনার টেবিলে টেনে আনাই ট্রাম্পের উদ্দেশ্য। শুল্ক পিছিয়ে দিলেও তিনি বলেছেন, ‘‘আমি তো বলব ইউরোপীয় ইউনিয়ন আমাদের সঙ্গে চিনের থেকেও খারাপ ব্যবহার করে।’