E-Paper

ডাক শিল্প মহলকে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে জোর দিল আর্থিক সমীক্ষা

বৃহস্পতিবার সংসদে চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেখানে একই সঙ্গে গিগ কর্মীদের কাজের ভিত্তিতে মজুরি স্থির করা, ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দেওয়ার মতো সুপারিশ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৩

—প্রতীকী চিত্র।

চড়া বেকারত্ব এবং বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে অনলাইনে পণ্য পৌঁছনোর কাজে যুক্ত গিগ কর্মীদের ধর্মঘটের আবহে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করল আর্থিক সমীক্ষা। সে জন্য চারটি শ্রমবিধি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেবে বলে জানিয়ে সফল ভাবে তা কার্যকর করার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এগিয়ে আসার ডাকও দিল। তবে এ দিনই রাজ্যসভায় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডবীয়ের দাবি, গত বছরে সারা দেশে আয়োজিত ১৮,০০০টি রোজগার মেলায় ২.২২ কোটি কর্মীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। ভারতে বর্তমানে বেকারত্বের হার মাত্র ৩.২%। যদিও গত সেপ্টেম্বরে দেশে বেকারত্ব বেড়ে ৫.২ শতাংশে পৌঁছনো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। কেন হার এতটা বাড়ল, জানতে চেয়েছেন সে কথা। উত্তরে শ্রম প্রতিমন্ত্রী শোভা কারান্ডলাজের দাবি, মরসুমি কাজের ধারা বদলানোই এর কারণ। এই বৃদ্ধি দেশের কাজের বাজারের প্রকৃত ছবি তুলে ধরে না।

বৃহস্পতিবার সংসদে চলতি অর্থবর্ষের আর্থিক সমীক্ষা পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সেখানে একই সঙ্গে গিগ কর্মীদের কাজের ভিত্তিতে মজুরি স্থির করা, ঘণ্টায় ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দেওয়ার মতো সুপারিশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে কর্মীদের কাজের উপযোগী করে তুলতে বিদ্যালয় স্তর থেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া, শিল্পের চাহিদা বুঝে লক্ষ্য বেঁধে তাঁদের দক্ষ করে তোলার কথাও।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, গত বাজেটে দেশে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য শিল্প মহলকে এগিয়ে আসার বার্তা দিয়েছিলেন নির্মলা। একই পথে হেঁটে বেসরকারি ক্ষেত্রকে কাজ তৈরির জন্য নীতি বদল, ব্যবস্থা উন্নত করা, কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি খতিয়ে দেখা ও কর্মীদের ডিজিটাল যুগের জন্য তৈরি করার কথা বলেছে এ বারের আর্থিক সমীক্ষাও। তাদের মতে, কাজ তৈরির বল ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বেসরকারি সংস্থার কোর্টেই। সরকারের বক্তব্য, শ্রমবিধি কর্মসংস্থানের ছবি পাল্টানোর প্রথম ধাপ। কিন্তু এর জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রের সমন্বয় এবং লগ্নি দরকার। শিল্প মহলও যাতে দক্ষ কর্মী পায়, তা নিশ্চিত করতে আগামীদিনে মহিলা ও তরুণ প্রজন্মকে কাজের জন্য তৈরি করা জরুরি। বর্তমানে দেশে৫৬ কোটি কর্মক্ষম মানুষ আছেন। সমীক্ষায় বার্তা, বিপুল জনসংখ্যার সুবিধা নিতে চাইলে উঁচু মান এবং ভাল বেতনের কাজ তৈরিতে মন দিতে হবে সকলকে।

এই প্রসঙ্গেই গিগ কর্মীদের কথা তুলে ধরেছে আর্থিক সমীক্ষা। কম মজুরি, নিরাপত্তাহীনতা, মাত্র ১০ মিনিটে পণ্য পৌঁছে দিতে না পারলে মজুরি কাটা বন্ধের দাবিতে ডিসেম্বরের শেষে গিগ কর্মীদের ধর্মঘটের ফলে পণ্য পৌঁছনোর পরিষেবা ব্যাহত হয়েছিল বিভিন্ন রাজ্যে। সমীক্ষায় সরকারের দাবি, এই কর্মীদের ৪০% মাসে ১৫,০০০ টাকার কম রোজগার করেন। অথচ দেশে কাজেরজগতে তাঁদের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। তাই তাঁদের সুরক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা জরুরি। সঙ্গে চাই স্থিতিশীল রোজগারের ব্যবস্থাও। সে জন্য নীতি তৈরি করে সংগঠিত ক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের আয়ের পার্থক্য কমানো, দক্ষতা বাড়াতে গাড়ি, বাইক-সহ বিভিন্ন জরুরি যন্ত্র কেনার ব্যবস্থা করে দেওয়া, ঘণ্টায় বা কাজের ভিত্তিতে ন্যূনতম মজুরি বেঁধে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Employment Unemployment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy