আইএল অ্যান্ড এফএস কেলেঙ্কারিতে এ বার মুম্বইয়ের বিশেষ আদালতে প্রথম চার্জশিট দাখিল করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেখানে সংস্থার বেশ কিছু ডিরেক্টর-সহ এক শ্রেণির অফিসারদের বিরুদ্ধে তুলল দুর্নীতির অভিযোগ। গত ফেব্রুয়ারিতে কালো টাকা লেনদেন প্রতিরোধ আইনে সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে ইডি।

নগদের অভাবে ধুঁকতে থাকা ঋণ খেলাপি গোষ্ঠীর বেশ কিছু কর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিটে প্রতারণার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বলা হয়েছে, স্বার্থ সিদ্ধির জন্য জেনেশুনে লোকসানে চলা সংস্থায় ঋণ দিয়েছেন তাঁরা। বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় যাতে হাত না পড়ে তা নিশ্চিত করতে, আর্থিক সঙ্কটের কথা জেনেও গোপন রাখার চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগ, সে জন্য কারচুপি করা হয়েছে হিসেবের খাতায়। সংস্থার প্রায় ৫৭০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি।

তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, কিছু অফিসার আইএল অ্যান্ড এফএসের কর্মী কল্যাণ ট্রাস্টে সংস্থার শেয়ার কম দামে স্থানান্তরিত করে, পরে মোটা দামে বাইরের সংস্থাকে বিক্রির কাজে যুক্ত ছিলেন। ইডি-র অভিযোগ, লেনদেনের যে মুনাফা সংস্থার কর্মীদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে, তার সিংহভাগই গিয়েছে ওই সব অফিসারের পকেটে।

সালতামামি

সেপ্টেম্বর, ২০১৮

• ঋণ সময়ে মেটাতে পারল না আইএল অ্যান্ড এফএস।
• বকেয়া আমানতের টাকা।
• বিভিন্ন ঋণপত্র ও গোষ্ঠীর মূল্যায়ন ছাঁটাই।
• বিশেষ অডিট শীর্ষ ব্যাঙ্কের।
• খতিয়ে দেখা শুরু সেবির।
• ঋণ বাজারে ছড়াল আশঙ্কা।
• বিভিন্ন এনবিএফসির ঋণপত্র বেচা শুরু ফান্ডের।
• আশঙ্কা শেয়ার বাজারেও।
• এনসিএলটির দ্বারস্থ পর্ষদ।

অক্টোবর, ২০১৮ 
• কেন্দ্রকে পর্ষদের রাশ নিতে সায় এনসিএলটির।
• উদয় কোটাকের নেতৃত্বে তৈরি নতুন পর্ষদ।
• শীর্ষ স্তরে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে এসএফআইও।

মার্চ, ২০১৯: অনিয়ম ধরা পড়ল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের করা বিশেষ অডিটে।
জুন, ২০১৯: আইএল অ্যান্ড এফএস কাণ্ডে প্রথম চার্জশিট এসএফআইও-র। অভিযোগ, পূর্বতন আধিকারিক, স্বাধীন ডিরেক্টর, অডিটরের মধ্যে যোগসাজসে অনিয়মের।

জুলাই, ২০১৯: ফরেন্সিক অডিটর গ্র্যান্ট থর্নটনের রিপোর্টে প্রকাশ উঁচু রেটিং পেতে শীর্ষ পদাধিকারিরা উপহারে তুষ্ট করেছিল রেটিং সংস্থার কর্তাদের।

১৭ অগস্ট, ২০১৯: এ বার আইএল অ্যান্ড এফএস কাণ্ডে চার্জশিট দিল ইডি।