বাইজ়ু এবং আনঅ্যাকাডেমির পর এ বার ফিজ়িক্সওয়ালা। দেশের আরও এক এডু-টেক সংস্থার উপর যেন পড়েছে শনির বক্র দৃষ্টি! কারণ, মাত্র ১০০ দিনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা উবে গিয়েছে তাদের। শুধু তা-ই নয়, ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও মূল্যের নীচে চলে এসেছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির স্টকের দাম। এর জেরে ধীরে ধীরে ফিজ়িক্সওয়ালার থেকে লগ্নিকারীরা যে মুখ ফেরাতে শুরু করেছেন, তা বলাই বাহুল্য।
শেয়ার বাজারে মেগা এন্ট্রি নিতে গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) নভেম্বরে আইপিও আনে ফিজ়িক্সওয়ালা। এর প্রাইস ব্যান্ড ছিল ১০৩-১০৯ টাকা। প্রতি লটে ১৩৭টা করে স্টক রেখেছিল এই এডু-টেক সংস্থা। ফলে আবেদনের সময় লগ্নিকারীদের ন্যূনতম ১৪ হাজার ৯৩৩ টাকা খরচ করতে হয়েছিল। যদিও তালিকাভুক্তির কিছু দিন পর থেকেই এর স্টকের দর লাফিয়ে লাফিয়ে নামতে শুরু করে।
আরও পড়ুন:
চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ৪৫ শতাংশ পড়ে যায় ফিজ়িক্সওয়ালার শেয়ারের দাম। ফলে আইপিও মূল্যের নীচে চলে আসে এর স্টক। তখন লোকসান বাড়ছে বুঝতে পেরে লগ্নিকারীদের মধ্যে এর স্টক বিক্রির হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। ওই দিন দুপুর ১টা ২০ মিনিট নাগাদ হাতবদল হয় এডু-টেক সংস্থাটির ৭০ লক্ষ শেয়ার। এর জেরে ফিজ়িক্সওয়ালার বাজার মূলধন ২৫ হাজার ৪৫১ কোটিতে নেমে আসে।
গত বছরের (পড়ুন ২০২৫ সাল) ১৮ নভেম্বর তালিকাভুক্তির সময় এডু-টেক সংস্থাটির বাজার মূলধনের অঙ্ক ছিল ৪৫ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা। ৭০ লক্ষ স্টক হাতবদল হওয়ার জেরে রাতারাতি সেই জায়গা হারিয়ে ফেলে ফিজ়িক্সওয়ালা। বর্তমানে (পড়ুন ২ মার্চ) প্রায় ৮২ টাকায় ঘোরাফেরা করছে এর শেয়ারের দর, যেটা আইপিও মূল্যের চেয়েও ২১ টাকা কম। গত এক মাসে ৩১ শতাংশের বেশি নেমেছে এডু-টেক সংস্থাটির স্টকের সূচক।
ফিজ়িক্সওয়ালার শেয়ারের দর নিম্নমুখী হলেও তাতে ‘বাই রেটিং’ দিয়েছে জেএম ফিন্যান্সশিয়াল ইনস্টিটিউশনাল সিকিউরিটিজ় নামের একটি ব্রোকারেজ ফার্ম। তাদের দাবি, অচিরেই ১১০ টাকায় উঠবে এডু-টেক সংস্থাটির স্টকের দাম। পাশাপাশি, ২০২৭-’২৮ আর্থিক বছরের মধ্যে ফিজ়িক্সওয়ালার হাতে থাকা রাজস্বের পরিমাণ বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে পারে ২৮ শতাংশ। অর্থাৎ ধৈর্য ধরলে মুনাফার সুযোগ রয়েছে বলে দাবি।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)