E-Paper

প্রায় বন্ধ সবচেয়ে বড় বাজার, চাল রফতানিতে বড় ধাক্কা খেল ভারত

বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ সালে ভারতের চাল রফতানি ৭.৫% কমে গিয়েছে। তা দাঁড়িয়েছে ১১৫৩ কোটি ডলারে (প্রায় ১,০৮,৫০৮.৮৩ কোটি টাকা)। শুধু মার্চেই রফতানি ১৫.৩৬% কমে হয়েছে ৯৯৭৫.৩ লক্ষ ডলার (প্রায় ৯৩৮৭.৪৭ কোটি টাকা)।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৬

— প্রতীকী চিত্র।

ইরানের উপরে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ কঠিন হয়েছে। ফলে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ভারতের চাল রফতানি। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য বলছে, এ দেশের চাল, বিশেষত বাসমতীর এক বড় অংশ যায় ইরান, সৌদি আরব ও ইরাকের মতো দেশে। বস্তুত, ইরানই ভারতের চাল রফতানির সব থেকে বড় বাজার। কিন্তু যুদ্ধজনিত অস্থিরতা, ঝুঁকি এবং পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। নতুন বরাত আসছে না। জাহাজের ভাড়া বৃদ্ধি খরচ বাড়িয়েছে। সময় অনুযায়ী জাহাজে রফতানি প্রক্রিয়া চালাতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে দাম পাওয়া বা মেটানোর ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সব মিলিয়ে বিরাট লোকসানে ডুবে যাচ্ছে এখানকার চাল রফতানিকারীরা। অবিলম্বে কোনও ব্যবস্থা না নিলে জল মাথার উপরে উঠে যাবে।

বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুসারে, ২০২৫-২৬ সালে ভারতের চাল রফতানি ৭.৫% কমে গিয়েছে। তা দাঁড়িয়েছে ১১৫৩ কোটি ডলারে (প্রায় ১,০৮,৫০৮.৮৩ কোটি টাকা)। শুধু মার্চেই রফতানি ১৫.৩৬% কমে হয়েছে ৯৯৭৫.৩ লক্ষ ডলার (প্রায় ৯৩৮৭.৪৭ কোটি টাকা)।

তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট চাল রফতানির ৭০ শতাংশই করা হয় পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে। সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রফতানি করা হয় ইরান, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে। সূত্রের দাবি, ভারত থেকে মূলত বাসমতী, গোবিন্দভোগ এবং সোনা মসুরি চাল কেনে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি। এগুলির মধ্যে বাসমতী চালের বৃহত্তম ক্রেতা ইরান। তাই প্রভাবও সব থেকে বেশি পড়েছে এই চালের ব্যবসাতেই। রফতানিকারীদের আক্ষেপ, ভারতীয় বাসমতী রফতানির ২৫% যায় তেহরানে। কিন্তু সমস্যা হল, নতুন বরাত আসা প্রায় বন্ধ। দাম মেটানোর সমস্যাও চাপে ফেলছে।

অন্য দিকে, জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি-সহ বিভিন্ন দেশে চালের চালান আটকে গিয়েছে। এর ফলে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকার বেশি আটকে রয়েছে বলে আশঙ্কা। লোহিত সাগর এবং হরমুজ় প্রণালীতে যুদ্ধের ঝুঁকির কারণে পরিবহণের ভাড়া এবং বিমার খরচ বেড়ে গিয়েছে।

রফতানিকারীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবিলম্বে না থামলে শুধু বাসমতী চাল রফতানিতেই প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়বে ভারত। রফতানি থমকে যাওয়ায় এবং বন্দরে কন্টেনার আটকে থাকায় দেশে, বিশেষত পঞ্জাব ও হরিয়ানায় বাসমতী চালের দাম ইতিমধ্যেই কেজি প্রতি ৪-৮ টাকা কমেছে। বাণিজ্য মহলের দাবি, চাল ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আঙুর, পেঁয়াজ-সহ পচনশীল কৃষিপণ্যের রফতানি। বহু মানুষের জীবন-জীবিকা ঝুঁকির মুখে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Rice Export Export West Asia US-Israel vs Iran

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy