পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতিকে কতটা কাবু করবে, উঠছে প্রশ্ন। এই আবহে সোমবার অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের দাবি, এই সঙ্কটে ধাক্কা খাওয়া ক্ষেত্রগুলির পাশে দাঁড়ানোর মতো আর্থিক ক্ষমতা কেন্দ্রের আছে। একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, আন্তর্জাতিক দুনিয়ার চ্যালেঞ্জ সামলাতে সুদের হার কমানোর সুযোগ রয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের সামনেও। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ইরান সঙ্কট ফের চড়া মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করায় গত ঋণনীতির মতো এ বারও সুদ অপরিবর্তিত রাখতে পারে আরবিআই। তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, কেন্দ্রের এই চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত সুদ কমে কি না, সেটাই এখন দেখার।
সোমবার শুরু হয়েছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতি বৈঠক। বুধবার তার ঘোষণা। গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানাবেন, সুদ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তুলে ধরবেন আর্থিক বৃদ্ধি ও মূল্যবৃদ্ধি সম্পর্কে অনুমান, ভারতীয় অর্থনীতির বর্তমান হাল, ঝুঁকি, ক্ষমতা ইত্যাদি।
পটনা আইআইটি-র অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, ‘‘মনে হয় কমিটির বেশির ভাগ সদস্যই সুদ অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেবেন। সেটাই বাঞ্ছনীয়। কারণ, সুদ বাড়লে লগ্নি ও আর্থিক বৃদ্ধি মার খাবে। আর তা কমানো উচিত নয় মূল্যবৃদ্ধির মাথা তোলার আশঙ্কা থাকায়। যুদ্ধ বেশি দিন চললে বিশ্ব বাজারে চড়া দামের অশোধিত তেলের প্রভাবে দেশে পেট্রলের দাম বাড়বে। আগামী মাসে চড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধির হার।’’
আইসিএআই-এর পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্তের দাবি, এ বার ঋণনীতি বৈঠক হচ্ছে খুব জটিল এবং কঠিন পরিস্থিতিতে। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক সুদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় মাথায় রাখতে হবে— জ্বালানির দর বাড়ছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধি মাথা তুলতে পারে। ডলারের সাপেক্ষে টাকা দুর্বল। আর্থিক বৃদ্ধিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। ধাক্কা খেতে পারেন ঋণগ্রহীতা এবং ক্রেতাও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)