এক দিকে ভারতে বিদেশি লগ্নি সংস্থাগুলির শেয়ার বিক্রি অব্যাহত। অন্য দিকে শ্লথ হয়েছে দেশের বিভিন্ন সংস্থায় বিদেশি প্রত্যক্ষ লগ্নির প্রবাহ। ফলে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বিদেশিদের কাছে সার্বিক ভাবে এ দেশের আকর্ষণ হারানো নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্য বলছে, মে মাসের প্রথম দু’সপ্তাহেই এখানে শেয়ার বেচে ২৭,০৪৮ কোটি টাকা তুলে নিয়েছে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি। এ বছরমাত্র সাড়ে চার মাসে তার অঙ্ক ছুঁয়েছে ২.২ লক্ষ কোটি টাকা। পুরো ২০২৫সালে তা ছিল ১.৬৬ লক্ষ কোটি। পাশাপাশি, ভারতে ২০২১-২২ সালে করোনার মধ্যে যেখানে প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নি এসেছিল ৩৮৬০ কোটি ডলার, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা নামে মাত্র ১০০ কোটিতে। গত অর্থবর্ষের এপ্রিল-ডিসেম্বরে সামান্য বেড়ে হয়েছে ৩০০ কোটি। তবে আশা প্রকাশ করে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের (এডিবি) মুখ্য অর্থনীতিবিদ অ্যালবার্ট পার্কের বার্তা, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি, আমদানি শুল্ক কমানো এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করার মতো পদক্ষেপের হাত ধরে মাথা তুলতে পারে বিদেশি লগ্নি।
বাজার মহল বলছে, পশ্চিম এশিয়ায় অনিশ্চয়তা তো রয়েইছে। সেই সঙ্গে দেশে টাকার দরে পতন, অশোধিত তেলের চড়া দাম, তার প্রভাবে ভারতে জ্বালানির দর বৃদ্ধি ওঅর্থনীতির ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় বিদেশি লগ্নিকারীরা ঝুঁকি নিতে নারাজ।তা ছাড়া আমেরিকার সরকারি বন্ডের প্রকৃত আয় (ইল্ড) বাড়ছে। মূল্যবৃদ্ধি চড়ায় বিদেশে সুদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। এ সবই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে।
পার্কের অবশ্য বক্তব্য, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অবাধ বাণিজ্য চুক্তি বিদেশি পুঁজি টেনে আনতে পারে।পরিকাঠামো ও ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে একই স্থানে নানা রকম সুবিধা ও কম আমদানি শুল্কও ভারতে লগ্নি বাড়ানোয় উৎসাহ দিতে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)